ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জান ও মাল কুরবানির মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য কাজ করতে হবে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# সোনাডাঙ্গা থানা জামায়াতের ইউনিট, ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষা বৈঠক #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, “দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের কর্মীদের নিঃস্বার্থভাবে নিরলস কাজ করতে হয়।” ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জান ও মাল কুরবানির মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য কাজ করতে হয়। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা নিঃস্বার্থ এবং আপোষহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। তিনি উপস্থিত কর্মীদের দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে অতীতের মতো সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে সোনাডাঙ্গা থানা জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট, ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারি শিক্ষা বৈঠক’২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।
সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা মো. জাহিদুর রহমান নাঈম এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি। শিক্ষা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে থানা কর্মপরিষদ সদস্য আলমগীর শিকদার, শেখ আনোয়ারুল কবির, দেলাওয়ার হোসাইন ফারাজী, দেলোয়ার হোসেন কাজল, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মশিউর রহমান রমজান, ২৫নং ওয়ার্ড আমীর ড. তহিরুল আহসান ত্বহা, ২৬নং ওয়ার্ড আমীর মাওলানা ছফির উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, থানা যুব ও ক্রীড়া সভাপতি মূর্তজা বিল্লাহ, ১৬নং ওয়ার্ড আমীর ডা. মশিউর রহমান, ১৭নং ওয়ার্ড আমীর রবিউল ইসলাম, ১৯নং ওয়ার্ড আমীর আবুল কালাম আযাদ, ২০নং ওয়ার্ড আমীর ডা. আবুল খায়ের, ২৫নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি মুহাদ্দিস শহিদুল ইসলাম, ১৮নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা মন্জুরুল ইসলাম, ১৬নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, ১৭নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি হাফেজ রেদওয়ান উল্লাহ, ২০নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইমরান হোসেন ইমরুলসহ সোনাডাঙ্গা থানার সকল ইউনিট সভাপতি সেক্রেটারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, ইক্বামাতের দ্বীনের দায়িত্ব কোন নফল ইবাদত নয় বরং আল্লাহর খলিফা হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের ওপরই অপরিহার্য। প্রত্যেক নবী-রাসূলগণই একই দায়িত্ব নিয়ে দুনিয়াতে প্রেরীত হয়েছিলেন। বিশ্বনবী (সা.) ও একই দায়িত্ব নিয়ে প্রেরীত হয়ে সফলভাবে সে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাই আমরাও এ দায়িত্ব থেকে মুক্ত নই বরং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো আমাদের ওপর ফরয। একাজে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য ইউনিট সংগঠন থেকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোর কোন বিকল্প নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের গণসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলী চিহ্নিত করে সেসবের সাধ্যমত সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে দ্বীনের বিজয় সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ কখনোই ফুল বিছানো ছিল না; এখনো নয়। যুগে যুগে যারাই মানুষের মাঝে দ্বীনে হক্বের দাওয়াত দিয়েছেন তাদের ওপরই নেমে এসেছে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন। নবী-রাসূলগণও এ থেকে আলাদা ছিলেন না। বিশ্বনবী (সা.)-এর ওপর চালানো হয়েছে নির্মম জুলুম-নির্যাতন। এমনকি শিয়াবে আবি তালিবে তাকে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তিনি এবং তাঁর আসহাসগণ ক্ষুধা বৃত্তি নিবারণের জন্য বাবলা গাছের পাতা খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই অতীতের ধারাবাহিকতায় সকল জুলুম-নির্যাতন ও বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ইসলামকে গালেব করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহবান জানান।



