সম্পাদকীয়

সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ হোক

গরু ও খাসির মাংসের তুলনায় হরিণের মাংসের দাম কম হওয়ায় সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় এই বন্যপ্রাণীর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মানুষ বেশি হরিণ শিকার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হরিণের প্রতি কেজি মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, জেলা শহরে প্রতি কেজি হরিণের মাংসের দাম ১,০০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা দাম নেওয়া হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে অনেক আগে থেকেই চোরা শিকারি ও পাচারকারী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ আবার বংশ পরম্পরা সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার করে চলেছেন। এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য বাঘ ও চিত্রা হরিণ। শিকারি চক্র চোরাপথে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ-হরিণ হত্যা করছে। তারা বনের মধ্যে হরিণ জবাই করে মাংস বানিয়ে লোকালয়ে এনে কেজি দরে বিক্রি করে। আর বাঘ ও হরিণের চামড়া লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি চলে। সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে শিকারি চক্রের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ চার হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার এবং জলভাগের পরিমাণ এক হাজার ৮৭৩ বর্গকিলোমিটার। জীববৈচিত্রে ভরপুর বিশ^ ঐতিহ্য সুন্দরবন। সর্বশেষ জরিপ অনুসারে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘ রয়েছে। আর হরিণের সংখ্যা দেড় লাখ। স্থানীয় সূত্র বলছে, সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে সহজলভ্য হওয়ায় মানুষের কাছে হরিণের মাংস বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ এবং খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, সেখানে হরিণের মাংস ৫০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায় বলে প্রচার আছে। ক্রেতারাও অনেক সময় প্রতারণা ভেবে হরিণ নিজ চোখে না দেখে মাংস কিনতে চান না। তাই চোরাশিকারিরা জীবন্ত হরিণ লোকালয়ে এনে জবাই করেন। অবৈধ জেনেও হরিণের মাংস কেনে মানুষ। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা হরিণের মাংস দিয়ে উৎসব পালন করেন। কেউ কেউ স্বজনদের হরিণের মাংস উপহার দেন। আবার বড় ধরনের স্বার্থসিদ্ধির জন্যও কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করতে গোপনে হরিণের মাংস সরবরাহ করা হয়। হরিণের চামড়া-শিং সৌখিন ব্যক্তিরা সংগ্রহ করে ড্রইংরুম সাজান। সুন্দরবন এবং এর প্রাণীদের রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। যেকোনো মূল্যে আমাদের এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাই সকলের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সেইসাথে বনবিভাগ ও প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button