সম্পাদকীয়

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। বেশ কিছু পণ্যের দাম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় নীতি সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের শুল্কছাড় এবং বাজার তদারকিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। উল্টো ভোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো অসহনীয় হয়ে উঠছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, অর্থ পাচার এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল বড় চ্যালেঞ্জে। এছাড়াও গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম ছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাব। ফলে বেড়েছে বেকারত্ব। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও মানুষের ভোগ, আয় ও সম্পদে বৈষম্য বেড়েছে। এ অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির জন্য প্রধানত দায়ী বিগত সরকার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মতো মৌলিক পদক্ষেপ না নেয়া এবং কার্যকর নীতি গ্রহণে কালক্ষেপণ করার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ক্রমে স্ফীত হয়েছে। এদিকে বর্তমানে বাজারদর কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছেই। এরই মধ্যে আবার বাজারে মুদ্রা সরবরাহের লাগাম টেনে ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক আরেক দফা নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এতে অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। শুল্কছাড় দেয়া হলেও চাল-পেঁয়াজের দাম কমছে না। সরকার পরিবর্তন হলেও সুবিধাভোগীরা আগের মতোই বহাল রয়েছে। অস্থিরতা তৈরির জন্য একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাজার তদারকির পদক্ষেপগুলোও দায়সারাভাবে করা হচ্ছে।’ ফলে বাজারে চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এ কারণেই সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কম দামের পণ্যের ট্রাকের পেছনে ক্রেতাদের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। আগে কেবল গরিব ও নি¤œবিত্ত মানুষ টিসিবির ভোগ্যপণ্যের জন্য লাইনে দাঁড়াতেন। এখন নি¤œমধ্যবিত্ত নারী-পুরুষেরাও দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বাজারে একেক সময় একেকটি পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়াও ভোক্তাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ভোক্তাদের চাহিদার চেয়ে কম খাবার কিনে খেতে হচ্ছে অথবা সংসারের অন্যান্য খাতের ব্যয় কমিয়ে খাবার কিনতে হচ্ছে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে সরকারকে আরও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে পণ্য সরবরাহ বাড়াতে হবে। শুল্ক কমানো কিংবা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পরও কাদের কারসাজিতে আমদানি পণ্যের দাম কমছে না, সেটা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও সরকারের। সামনেই আসছে পবিত্র রমজান মাস। সেই সময়ে ভোগ্যপণ্যের দাম যাতে কোনোভাবেই না বাড়ে, সরকারকে আগে থেকেই তার জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button