রমজানে আমদানি ত্রুটির শঙ্কা: ব্যবসায়ীরা বিপাকে

পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি সমৃদ্ধ বরকতময় মাস। এ মাস মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশে রমজান আসলে দ্রব্যমূল্যের দাম কমে সেখানে বাংলাদেশে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যে কমের বিপরীতে বেড়ে যায়। যা নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের ফলে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে। কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল জনগণ এখনও পায়নি। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে মূল্যেই স্বস্তি ফিরেনি। বরং ইতোমধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে আসছে রমজান মাসে দ্রব্যে মূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ার। সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবরাখবর থেকে জানা যায়, রমজান শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি শুরু করেন দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা। কিন্তু বর্তমানে ১১টি ব্যাংকের ক্রেডিট লাইন খারাপ হওয়ার কারণে সেসব ব্যাংক থেকে এলসি খুলতে পারছেন না আমদানিকারকরা। এ ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো থেকেও খোলা যাচ্ছে না প্রত্যাশিত এলসি। তাই রমজানের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশে আমদানির গতি নি¤œমুখী। গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমেছে ৭ শতাংশ। নিষ্পত্তি কমেছে ২.৫ শতাংশ। যদিও রমজানকে সামনে রেখে ১১ ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি সহজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবুও রয়ে যাচ্ছে দুশ্চিন্তার ভাজ। যদি আমদানিতে ঠিকই এমন শঙ্কা তৈরি হয় তাহলে দেশের অধিকাংশ মানুষ তাঁদের প্রয়োজন মাফিক খাদ্যে থেকে বঞ্চিত হবেন। বিশেষ করে এর প্রভাবে নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও যাদের দৈনিক বা মাসিক আয় নির্দিষ্ট, পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া রমজানে এসব মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় না, বরং অনেকের আয় কমে যায়। তাই এসব মানুষদের ভোগান্তির কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধান করা অতিপ্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যবসায়িদের ব্যাংক হিসাব সহজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার এবং রমজানে অধিক চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর অবস্থানে গিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা আশা করব, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণকে নিরাশ না করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন।
