শব্দদূষণ: নাগরিক জীবনের এক নীরব ঘাতক

শব্দদূষণ আজকের নগরজীবনের এক ভয়ংকর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় শব্দসীমা ৫৫ ডেসিবেলের মধ্যে থাকা উচিত। কিন্তু ২০২৪ সালের গ্লোবাল সিটিস ইনস্টিটিউশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, যানজটপ্রবণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় এই মাত্রা ৮৫ ডেসিবেলের বেশি পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানেও শব্দদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগের অভাব স্পষ্ট। যানবাহনের হর্ন, সামাজিক অনুষ্ঠান, এবং বেপরোয়া শহুরে সংস্কৃতির কারণে শব্দদূষণের মাত্রা বাড়ছে। সড়কে শৃঙ্খলার অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংও শব্দদূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। শব্দদূষণের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। গবেষণা বলছে, বর্তমানে ঢাকায় শব্দদূষণের কারণে শহরের প্রতি চারজনের একজন শ্রবণশক্তি কম পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরাঞ্চলের ৪৫ শতাংশ মানুষ শ্রবণশক্তি হ্রাসের শিকার হবে। ২০৪৫ সালের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ব্যতীত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পুলিশ প্রশাসন কিছু উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শব্দদূষণ রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, কঠোর জরিমানা, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত জরুরি। শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
