বেহাল সড়ক, বিপজ্জনক যাত্রা: সংস্কার করা জরুরি

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান, তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কগুলোর বেহাল দশা আজও এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থেকে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কটি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সড়কটি বর্তমানে খানাখন্দে ভরা, কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, আর বৃষ্টির পর গর্তগুলো পরিণত হয় বিপজ্জনক জলাশয়ে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যা যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটির অধিকাংশ অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভয়াবহ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ট্রাক ও পিকআপসহ নানা যানবাহন এখানে চলাচল করে, যার মধ্যে রয়েছে এমন সব মানুষ যারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কটির মাধ্যমে শুধু বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ নয়, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করে। সুতরাং, এই সড়কটি শুধু মাত্র স্থানীয়দের জন্য নয়, পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, সড়কটির বেহাল দশা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একজন সিএনজি চালক জানান, সড়কের অধিকাংশ অংশে ইটের সলিং উঠে গেছে, এবং গর্তগুলো গাড়ির চাকা ভেঙে দেয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে, যা কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভিজ্ঞতা আরও উদ্বেগজনক। বিশেষত গর্ভবতী মায়ের জন্য সড়কটির ঝাঁকুনি আরও বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, যেটি রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়। ব্যবসায়ীদের জন্যও এই সড়ক হয়ে উঠেছে এক বড় বিপদ। মালামাল পরিবহনের সময় প্রায়ই কাচের পণ্য ভেঙে যায়। যা ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে সড়কটি নির্মাণের পর এর সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তবে কোনো ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেনি বলে কাজটি বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও কর্তৃপক্ষের আশ^াস, টেন্ডার প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে এবং সংস্কার কাজ শুরু হবে, তবে এ ধরনের আশ^াসের পরেও স্থানীয়রা এই ধরনের প্রতিশ্রুতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকার পর, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ ধরনের সড়কের অবস্থা আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি দায়িত্বশীলতার অভাবকেই প্রকাশ করে। সড়কটির প্রকৃত সংস্কার ও উন্নয়ন শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং এটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের উচিত, শুধু আশ^াসে না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় এবং জনগণের দুর্ভোগের সমাধান হয়। এই ধরনের সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়ক হবে।
