সম্পাদকীয়

ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা প্রয়োজন

# জ্বালানিসংকটে অসন্তোষ #

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকটে পুরো বিশ্বে টালমাটাল অবস্থা। জ্বালানি খাত প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশেও বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি, তবে বিপুল অঙ্কের অর্থ ভর্তুকি দিচ্ছে। আবার ‘জ্বালানি আছে’ বলে যে বার্তা সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল পাচ্ছেন না। এতে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও ক্ষোভ-বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। দৈনিক প্রবাহ’র খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার শুধু ডিজেলেই দৈনিক ৭৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এক মাসে ডিজেলেই ভর্তুকি দাঁড়াতে পারে ২২৭১ কোটির বেশি। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ভর্তুকি দিয়ে কিছুদিন বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক চাপ রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার পরও স্বল্প সময়ে ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চলমান সংকটের শুরু থেকেই বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। চলতি সপ্তাহে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় কমানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট, শপিং মল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে সরকার ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। এ সময় প্রয়োজন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু খাত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা যদি ডিজেল না পান, তাহলে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে মোট ধানের ৬০ শতাংশই আসে বোরো ধান থেকে। এই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে, সারা দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে পড়া। এই সময়ে বোরো ধানে শীষ এসেছে। এখন প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন পানি। কিন্তু কিছুদিন থেকেই খবর আসছে, কিছু জেলায় কৃষকরা ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না। সংকট মোকাবেলায় সরকার সচেষ্ট। বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের জোর প্রচেষ্টা চলছে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সেই বৈঠকেও ভারত থেকে ডিজেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, সরকার যেসব সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে, সেসবের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এই আপৎকালেও যারা অবৈধ পন্থায় সংকট আরো তীব্র করে তুলছে, তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button