সম্পাদকীয়

প্রয়োজন টেকসই বাস্তবায়ন

# ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তি #

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের অবসানে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর শুরু হওয়া এ যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। আহত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। ধ্বংস হয়েছে বিপুলসংখ্যক ভবন ও স্থাপনা। এর সিংহভাগ ভুক্তভোগী ইরান ও লেবাননের জনগণ। ইরান হারিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে। বস্তুত এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বেই। জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক সংকট। একপর্যায়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে হুমকির মুখে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের জনশক্তি বাজার। তাই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে উপনীত হতে যাচ্ছে জেনে আমরাও স্বস্তি অনুভব করছি। আশা করছি, নির্ধারিত দিনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে এবং উভয় পক্ষ যথাযথভাবে চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলবে। প্রকৃতপক্ষে একটি চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ কথা নয়; আসল চ্যালেঞ্জ হলো এর টেকসই বাস্তবায়ন। অতীতে আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে এ ধরনের কোনো কোনো চুক্তি ভেস্তে গেছে। তাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে উভয় পক্ষকেই বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কোনো পক্ষ থেকেই যেন এমন কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, যা এই ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে; বিশেষত যেখানে এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়। সবচেয়ে বড় সংশয়ের জায়গাটি হলো ইসরাইল। দেশটি চুক্তির অংশীদার নয়। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির বলেছেন, তিনি এ চুক্তিতে তেল আবিবের কোনো বাধ্যবাধকতা দেখছেন না। অন্যদিকে আমরা দেখছি, ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটির কিছু এলাকা দখল করেও নিয়েছে। কাজেই এ অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের স্বার্থে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি টেকসই হবে, এটাই প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button