সম্পাদকীয়

গুচ্ছ পদ্ধতিই কাম্য

# বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা #

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জীবনে একটি দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর করতে একজন শিক্ষার্থী কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। পরীক্ষার সময় দেখা যায়, আজ রাজশাহী তো কাল পটুয়াখালী, তার পরের দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ছুটতে হয়। পথের দুর্ভোগ ছাড়াও অনেককে রাত কাটাতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছতলায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় মেয়ে শিক্ষার্থীদের। সকালে বাথরুমে যাওয়ার বা ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত থাকে না। শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে, এক ছাতার নিচে সব ভর্তি নিয়ে আসতে। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের যাতে একটি দিনও নষ্ট না হয়, সে জন্য ভর্তি প্রক্রিয়াকে একটি ক্যালেন্ডারের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা কমানোর জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনেক দেন-দরবারও করেছে, কিন্তু কাক্সিক্ষত সাফল্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিকট অতীতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেও তা ব্যাপকতা পায়নি। ২০২১ সালেই প্রথম করোনা মহামারির মধ্যে কিছুটা বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা। সে বছর ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পরবর্তীকালে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সংকট আবারও বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছোটাছুটি আবারও বেড়ে যায়। পাশাপাশি আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করা থেকে অংশ নেওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদেরও অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হয়। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের আইনে পরিচালিত যেসব বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে আসতে অনীহা দেখাবে, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত হলেও তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানে সরকারের নির্দেশনা। এখন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে যদি ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজি না হয়, তাহলে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর বড় পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তিতে এলে বেরিয়ে যাওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলে আসবে। পাশাপাশি এইচএসসির ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের যাতে এক দিনও বসে থাকতে না হয়, এ জন্য একটি ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরি করতে ইউজিসিকে অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী। সূত্র জানায়, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছের নাম দেওয়া হয়েছে জিএসটি (জেনারেল, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)। এ ছাড়া প্রকৌশল গুচ্ছে এবং কৃষি গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়ও আলাদা ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই গুচ্ছ ভর্তিতে আসেনি। বিশেষায়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও (বুয়েট) গুচ্ছে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেক কমে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচ্ছিন্ন ভর্তি পরীক্ষার দুর্বিষহ দুর্ভোগের দ্রুত অবসান হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button