খুলনায় স্কুল ছাত্র রিহাদ হত্যা মামলায় ৪জনের যাবজ্জীবন

অপর আসামির ৩ বছরের কারাদ-
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিহাদ বাবার ইজিবাইক নিয়ে বের হলে তাকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. রিহাদ হোসেন হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাজমুস শাহাদাত এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী নজরুল ইসলাম।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজু শেখ ওরফে গাংগুয়া, শামীম ওরফে সবুজ মোড়ল, নুর আলম সিদ্দিক ওরফে কলিন্স ওরফে বাদশা এবং জয়ন্ত। এছাড়া মামলার আরও দুটি ধারায় তাদের পৃথক মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামি আবুল কালাম আজাদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহাগ তালুকদার, শামীম হোসেন ও শহিদুর রহমান ওরফে শাওনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালতের সূত্র জানান, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাবার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রায়েরমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিহাদ হোসেন। পরে কয়েকজন যাত্রী তার ইজিবাইক ভাড়া করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার আগে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তিনি গ্যারেজ মালিককে জানিয়েছিলেন, ফিরতে দেরি হবে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে আড়ংঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার পঞ্চু খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি রিহাদের বলে শনাক্ত করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের চাচা শেখ জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।



