ভারতে পালানোর কালে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেফতার

যশোর ব্যুরো ঃ চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫)কে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার ২৯ জুলাই ভোর পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ও তার তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুরোধে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানার ৯টি টিম যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। যশোর-নড়াইল সড়কের বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের হেডকোয়ার্টার ঝুমঝুমপুর রিজিয়ন-এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের চলমান মামলার তদন্তের স্বার্থে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৭ নম্বর কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন বলেও পুলিশের দাবি।
আটক তার সহযোগী তিনজন হচ্ছে, ঢাকার শ্যামপুর থানার আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহর গঞ্জের বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিলে বসবাসকারী মো. শামীম (২৮) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাফায়েত হোসেন (২৮)। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ২ কোটি টাকা এককালীন ও মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এরপর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে যশোরে অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম পুলিশের সাথে যশোরের পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে অংশ নেন।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক,অবৈধ অস্ত্রের উৎস, অর্থের যোগান এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।



