সম্পাদকীয়

নারী পাচারকারী চক্র দিন দিন সক্রিয় হচ্ছে

চাকরির প্রলোভন, বিদেশে চাকরিসহ নানা কৌশলে নারীদের পাচার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নাগরিকদের একটি চক্র কথিত বিয়ের মাধ্যমেও নারীদের পাচার করছে। প্রকৃত বিয়ের মতোই নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা হয়, কিন্তু দেশের সীমানা পেরোলেই কঠিন বাস্তবতা সামনে আসে। এমন অনেক নারীকে লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে গতকালও দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, পাচারচক্র বিয়ের কাবিননামাকে বৈধ নথিপত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এতে নিরাপত্তা পুলিশ বা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শাপলার (ছদ্মনাম) তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ৫ আগস্ট একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে চীন থেকে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। শাপলা কালের কণ্ঠকে জানান, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে চক্রের সদস্য নাইমা খাতুনের চাকরির প্রস্তাবে তিনি রাজি হন। এরপর তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকায় একটি ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কথিত স্বামী তাঁকে চীনে নিয়ে যায়। চীনে পৌঁছার পরই শুরু হয় নির্যাতন। এক পর্যায়ে অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে জীবন বাঁচান শাপলা। শাপলা জানান, তাঁর মতো এমন হতভাগ্য নারীর সংখ্যা অনেক। একেকজন তরুণীকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা বিক্রি করা হয়। শুধু চীন নয়, নানা দেশেই অসহায় নারীদের পাচার করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অনেক নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে কতশত নারী লাশ হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে কর্মসংস্থানের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট কাটাতে অনেকেই নানা লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হন। মানবপাচার নিয়ে কাজ করা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি চীন দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় এক হাজার ৩০০ নারী বউ হিসেবে চীনে গেছেন। আমাদের কাছে যে পরিমাণ অভিযোগ আসছে তার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এঁদের মধ্যে অন্তত অর্ধেকই পাচারের শিকার।’ আমরা মনে করি, নারীপাচার রোধে দেশি-বিদেশি পাচারচক্র চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button