সম্পাদকীয়

নিয়ন্ত্রণহীন মাদক কারবার ঠেকাতে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ

সারা দেশ মাদকে সয়লাব। খুলনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির সাথে সাথে শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনার ৯ উপজেলাতে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। শহর থেকে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও থাবা বসিয়েছে মাদক। পরিস্থিতি এত নাজুক হয়ে পড়েছে যে কোথাও কোথাও ডেকে ডেকেও মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মাদক জব্দের পরিমাণও আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিনব নানা কৌশলে মাদক ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে মাদকসেবীদের হাতে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, দূরপাল্লার বাসে সাধারণ যাত্রীবেশে মাদক পরিবহন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে আকাশপথ, নৌ ও রেলসহ আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসও ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেকনাফ সীমান্ত থেকে ঢাকা-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুট হয়ে সারা দেশে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়েও হেরোইন, ফেনসিডিলের মতো ভয়ংকর মাদক দেশে ঢুকছে। নজর এড়াতে আগের মতো মাদক পরিবহনের কাজে নারী ও শিশুদের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন যোগাযোগ এবং কুরিয়ার ব্যবস্থা মাদক বিস্তারে নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খুলনার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতেসহ রাজধানীর মিরপুরে প্রকাশ্যেই ডেকে ডেকে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, শুধু মিরপুরই নয়, রাজধানীর অন্যান্য স্থানের চিত্র কমবেশি একই রকম। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তথ্য বলছে, সব সংস্থার অভিযানে ২০২৪ সালে মোট দুই কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ হয়। এরপর ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১ পিসে। এ ছাড়া গত ছয় মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির সমীক্ষা বলছে, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ অবৈধ মাদক সেবন করে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এখন মাদকাসক্তি শুধু জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।’ আমরা মনে করি, মাদক যে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশি-বিদেশি নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতে হবে। দেশের সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি নিশ্চিত করলে দেশে মাদক অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button