স্থানীয় সংবাদ

জনবল সংকটে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

# রোগীদের উপচে পড়া ভিড়, মেঝেতেও মিলছে না জায়গা
# রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগ #

শেখ মোঃ জাকির হোসেন খুমেক থেকে ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালÑদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। ১৯৯২ সালে ৪০ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে ৮ জুলাই শুরু হয় প্রথম ভর্তি কার্যক্রম। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল রয়ে গেছে আড়াইশো শয্যার কাঠামোতেই। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালে ৫০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ রোগী। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপের কারণে বেড তো দূরের কথা, মেঝেতেও জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক, নার্স, বড় ধরনের সংকট না থাকলেও ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে, আর এই সংকটের কারণেই ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৪ বছর আগে সরকারি জনবল নিয়োগের পর নতুন করে পর্যাপ্ত সরকারি নিয়োগ হয়নি। ফলে আড়াইশো শয্যার জনবল দিয়েই চলছে বর্তমান ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম। প্রতিদিন বাড়তে থাকা রোগীর চাপের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। রামপাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আলতাফ বলেন, “বেড পাওয়া তো দূরের কথা, হাসপাতালের মেঝেতে একটু জায়গা পাওয়াও কঠিন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও ভালো নয়।” ঝিকরগাছা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা তানিয়া বলেন, “আমি ১২ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখনো কোনো বেড পাইনি, মেঝেতেই আছি। এখানকার পরিবেশ খুব খারাপ, বিশেষ করে ওয়াশরুমের অবস্থা আরও খারাপ।” শুধু বড়দের নয়, শিশু ওয়ার্ডেও একই চিত্র। তেরখাদা থেকে ১৩ মাস বয়সী নিলুফাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার মা। শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা মেয়েকে নিয়ে মেঝেতে জায়গা পেয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, “অনেক কষ্টে মেঝেতে একটু জায়গা পেয়েছি। কিন্তু যে পরিবেশ, তাতে রোগী সুস্থ হবে কিনা তা নিয়েই চিন্তায় আছি। বরং আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।” সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। কোথাও বেডে, কোথাও মেঝেতে, আবার কোথাও স্বজনদের সহায়তায় কোনোমতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনাÑসব ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, “এত বড় হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। জনবল সংকটে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের ভালো সেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ রোগী ভর্তি থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছনতা কর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে, আমরা বিষয়টি খুলনা সিটি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু কে জানিয়েছি, তিনি আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি আমাদের কিছু জনবল দিলে কিছুটা সংকট কমবে, হঠাৎ করে রোগীদের এমন চাপ আমাদের জন্য সত্যিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” রোগীর চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি হাসপাতালের জনবল ও সুযোগ-সুবিধা। ফলে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে বেডের পরিবর্তে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিয়েও। সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button