সম্পাদকীয়

দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার : জরুরি পদক্ষেপ নিন

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। একদিকে সংক্রমণ কমলে, অন্যদিকে বেড়ে যায়। একসময় এটি ছিল রাজধানীর মতো শহরকেন্দ্রিক রোগ। কিন্তু ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা এখন দেশের ৬৪ জেলায়ই হানা দিয়েছে। গতকাল দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বলা হয়, গত বছরের তুলনায় এবার আক্রান্ত ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে আরো বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৫২ জন। এ সময় মারা গেছে চারজন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৩২ এবং মৃত্যু হয়েছে ১১১ জনের। গত বছর একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৯৪৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ১২৭ জনের। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। তবে ইতিবাচক দিক হলো মৃত্যুর হার কমেছে। উদ্বেগের ব্যাপার হলো, এই সময়ে এসে ডেঙ্গুর মানচিত্রে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে আক্রান্তদের প্রায় ৬৯ শতাংশই ছিল ঢাকার বাইরের। চলতি বছর সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশে। এবার ঢাকার বাইরে অন্তত ১০টি জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এর মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রংপুর ও কুড়িগ্রামে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখা গেছে, খুলনায় চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৪২৬ জন। গত বছর আক্রান্ত হয়েছিল এক হাজার ১৯৬ জন। মশা নিধনে প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞমহল বেশ কয়েক বছর থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং ফগিং মেশিনের মতো কর্মসূচিগুলো বেশির ভাগ সময় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাজধানীর মতো শহরে মশা নিধনে কিছু কর্মকা- চোখে পড়লেও, মফস্বল শহরে তা নেই বললেই চলে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমানে সেসব এলাকায়ই সংক্রমণের হার বেশি, আবার সেখানে চিকিৎসাসেবার দশাও করুণ। কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের মতে, থেমে থেমে বৃষ্টি, এডিস মশার জন্য অনুকূল তাপমাত্রা এবং মাঠ পর্যায়ের নজরদারির তথ্যÑসবই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর জুড়ে পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা মনে করি, ঢাকার বাইরে যেসব এলাকা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে, সেসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মশা নিধনের পাশাপাশি রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button