বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ : আলোচনার পথ খুঁজতে হবে

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছিলেন, এটি যেকোনো সময় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সেটি ছিল ২০২৩ সাল। আর এখন ২০২৬ সালে সেই আশঙ্কা অনেকটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিধি বেড়েছে, বেড়েছে যুদ্ধের তীব্রতাও। বিশেষ করে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের আক্রমণে বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে মিত্র দেশগুলোর কাছে সহায়তাও চেয়েছে রিয়াদ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আলোচনার পথ উন্মুক্ত না হলে পরিস্থিতি আরো অগ্নিগর্ভ হতে পারে। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ শহরে হুতিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছে। এদিকে হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে তিনটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এমনকি একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুতিরা। এই পরিস্থিতিতে হুতিদের হামলা প্রতিহত করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। হামাস-ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছেই। একই সঙ্গে লেবাননেও হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথমে ইরানকে দুর্বল মনে করা হলেও দিন যত গেছে ইরান ততই নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন নতুন কৌশল হাজির করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় গোটা বিশ্বেই জ্বালানি বাজার সংকটে পড়ে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ থেকে যতটা সহজে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যেতে চেয়েছিল, তা এখন উল্টো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আমরা দেখেছি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি টিকেও ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা আবারও ভেস্তে গেছে। সম্প্রতি উভয় পক্ষই শক্তি প্রদর্শন করছে। যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, যুদ্ধ কখনোই কল্যাণ বয়ে আনতে পারে নাÑশুধু পারে বিশ্বমানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করতে। তাই যেকোনো সংকট সমাধানে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। সব পক্ষকে সেই পথই খুঁজতে হবে।
