জাতীয় সংবাদ

কলি হত্যা-ধর্ষণ: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে ২য় দিনের মতো হামলা-ভাঙচুর

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের (৫৫) বাড়িতে পরপর দুই দিন ধরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ এসে মোস্তফার বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত জনতার উপস্থিতি ও ভাঙচুরের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দোতলা ভবনটিতে ভাঙচুর অব্যাহত ছিল। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে প্রথম দফায় শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে মোস্তফার বাড়িতে চড়াও হন। তারা বাড়ির দেয়াল, দরজা, জানালার গ্রিল ও ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করেন। হামলায় পুরো বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্ষুব্ধ জনতা জানান, অপরাধীর কোনো চিহ্ন এই এলাকায় রাখা হবে না। স্থানীয়দের ভাষায়, ভবিষ্যতে এই স্থানটিকে আবু জেহেলের বাড়ির মতো বানিয়ে রাখা হবে, যেন মানুষ এসে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল জানান, শুধু স্থানীয়রা নন, দূরদূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এসে ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছেন। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার’-এর পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু বলেন, ‘আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। প্রতিবাদের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা একটি উদ্বেগজনক সংস্কৃতি তৈরি করছে।’ পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অভিযুক্তের বাড়ির মূল মালামাল পুলিশ আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা করে বাড়িতে দিয়ে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু কামরুন্নাহার কলি। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি খ-িত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, মূল অভিযুক্ত মোস্তফা ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১) ফুঁসলিয়ে শিশুটিকে মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করে প্রথমে খাটের নিচে ও পরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ঘটনায় জড়িত মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আসামিদের মোবাইল থেকে উদ্ধার করা তথ্য ও ছবিতে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button