‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ মৌসুমী-সানীর

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বছর দুই আগে সামাজিকমাধ্যমে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়েছিল নির্মাতা-অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর বিয়ের খবর। বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হলে তখন দুজনই স্পষ্ট করে জানান- এটি বাস্তব নয়, বরং তাদের অভিনীত একটি প্রজেক্ট ঘিরেই এই গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সেই প্রজেক্টটির নাম ছিল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। শুরুতে এটি এক ঘণ্টার নাটক হিসেবে নির্মিত হলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমা হিসেবেই দর্শকের সামনে আসছে। আগামী ১৫ মে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিপাকে মৌসুমী। তিনি জানিয়েছেন তার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। এ নিয়ে মৌসুমীর স্বামী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তার সামাজিকমাধ্যমে। সেই ভিডিওতে মৌসুমী জানিয়েছেন কাজটির নেপথ্যের গল্প। এরই মধ্যে হাসান জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ওমর সানী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অডিও বার্তায় মৌসুমী বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ এক ঘণ্টার একটি ছোট নাটক। আমেরিকা যাওয়ার পর একটি মেয়ের সংগ্রামের গল্পে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। হাসান জাহাঙ্গীরের খুব অনুরোধের কারণে সে সময় কাজটি করেছিলাম। দুই দিনের কাজ হলেও তিন দিন শুটিং করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসান জাহাঙ্গীর জানায়, ফুটেজ বেশি হয়েছে। এক ঘণ্টার নাটক হিসেবে মুক্তি দিলে লস হবে। তিনি টেলিফিল্ম আকারে মুক্তি দিতে চায়। আমিও অনুমতি দেই। পরে আরো একদিন শুটিং করি। হঠাৎ করেই শুনলাম টেলিফিল্মটি সিনেমা হিসেবে সেন্সর নিয়েছে, সিনেমা হলে মুক্তি দিচ্ছে। শুনে খুবই অবাক হয়েছি যে, সেন্সর বোর্ড কিভাবে একটা টেলিফিল্ম সিনেমা আকারে মুক্তির অনুমতি দেয়। এটা আমি হাসান জাহাঙ্গীর ও সেন্সর বোর্ডের কাছে আশা করিনি। বিষয়টি নিয়ে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এই অভিনেত্রী আরও বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সমিতি বিষয়টা যেন বিবেচনা করে। সিনেমার পারিশ্রমিক যেমন হয় তাও কিন্তু পাইনি। এমন অপেশাদার কাজ আগে কখনো দেখিনি। খুবই দুঃখজনক। আমার দর্শকরা এমন কিছু দেখার জন্য প্রস্তুত নন। আমার দর্শকরা এটা ভালো ভাবে নিবে কিনা সে জন্য আমি চিন্তিত ও লজ্জিত। হাসান জাহাঙ্গীরের অপেশাদার কর্মের জন্য আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। এমনকি তার এহেন কাজের জন্য তীব্র নিন্দা জানান এই অভিনেতা। এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসান জাহাঙ্গীরের সাড়া পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছিল এই প্রজেক্টের শুটিং। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর নিজেই। গত মার্চে সিনেমাটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে।



