‘কোনো অভিযোগ নেই, আমার জীবন প্রাপ্তি ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ’ : ববিতা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যার খ্যাতি আকাশ ছুঁয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। পর্দার সফল এই অভিনেত্রীর ৭৩তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। ১৯৫৩ সালের আজকের এই দিনে বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ববিতা তার একমাত্র ছেলে অনিকের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করবেন বিধায় গত ২৪ জুলাই কানাডার টরেন্টোতে চলে গেছেন। জন্মদিন উদযাপন করে আগামীকাল ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ হলিউডের সার্চ অব সাইন্টোলজিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘আনন্দমেলা অ্যাওয়ার্ড ও কালচারাল প্রোগ্রাম ২০২৬’ অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা হবেন। আগামী ২ আগস্ট ববিতা এই ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হবেন। এরপর ববিতা নিজের মতো করে সময়ে কাটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট কানাডায় ফিরে যাবেন। এদিকে ববিতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে এরইমধ্যে ‘ববিতা সমগ্র’ নামের বিশেষ এক আয়োজন করেছে মাছরাঙা টেলিভিশন। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা করেছেন রুম্মান রশীদ খান। এটি প্রচার হবে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর জন্ম থেকে অদ্যাবধি পুরো জীবনের ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা হয়েছে। ববিতার জীবনের নানা জানা-অজানা ঘটনা, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিকসহ তার সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের কথায় সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠান। অন্যদিকে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে ববিতাকে নিয়ে জন্মদিনের গান ‘আওয়ার ড্রিম গার্ল’। এটি লিখেছেন ওমর ফারুক। সুর সঙ্গীত করেছেন শান সায়েক। কণ্ঠ দিয়েছেন রাশেদ, শাপলা পাল, শান, রাইসা, জয় ও তানজিন মিথিলা। গত ২২ জুলাই এই গানের মিউজিক ভিডিওতে ববিতা নিজেও অংশগ্রহণ করেন। চলতি বছরেই ববিতা একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া ও তিনি ‘হুজ হু’ ও ‘মা পদক ২০২৬’-এও ভূষিত হয়েছেন এই বছরেই। যে কারণে ববিতা তার জীবনের চলার পথে ২০২৬ সালটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবার এই বছরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ‘লাইফটাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওার্ড’-এ ভূষিত হচ্ছেন। ববিতা বলেন, ‘একজন নায়িকা হিসেবে এই দেশের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। একমাত্র ছেলে অনিককে মানুষের মতো মানুষ বানাতে পেরেছি। এখনো মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যাচ্ছি। জীবন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। আমার জীবন প্রাপ্তিতে, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। আমি দর্শকের প্রতি, আমার প্রতিটি সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, সিনেমাটোগ্রাফার, মেকাপম্যান, সহশিল্পীসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমি যেন সুস্থ থাকি ভালো থাকি।’ ১৯৬৮ সালে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক হয় ববিতার। এখানে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ফরিদা আক্তার পপি থেকে ‘ববিতা’ হয় ওঠেন জহির রায়হানের উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’র মাধ্যমে। নায়িকার ভূমিকায় ববিতার প্রথম সিনেমা ‘শেষ পর্যন্ত’। এটি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট, যেদিন ববিতার মা মারা যান। এতে তার নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। আলোচিত সিনেমা ‘টাকা আনা পাই’ ববিতাকে চলচ্চিত্রের শক্ত আসন দিলেও তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমা বলা হয় সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’কে। এ সিনেমায় অভিনয় করে ববিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ প্রশংসা অর্জন করেন। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা যে নায়িকা প্রথম উড়িয়েছিলেন তিনি ববিতা। ১৯৭৩ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বিয়ার’ এবং এর পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ‘গোল্ডেন হিউগো’ জিতে নেয় সিনেমাটি। পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকসহ আরও বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে এটি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন এ অভিনেত্রী। স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ববিতা অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘অশনি সংকেত’, ‘নিশান’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘মায়ের জন্য পাগল’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘স্বরলিপি’, ‘তিনকন্যা’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘মিস লঙ্কা’, ‘জীবন সংসার’, ‘লাইলি মজনু’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ ইত্যাদি।



