তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ করলেন আরাগচি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, মিশর এবং নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপ করেছেন। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা নিয়েও কথা হয় বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংলাপগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক গতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি উঠে আসে। উভয় পক্ষই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমন্বিত অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। অন্যদিকে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে ফোনালাপে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। কায়রো ও তেহরানের এই যোগাযোগকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই দিনে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেনের সঙ্গেও কথা বলেন আব্বাস আরাগচি। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ইউরোপ–ইরান কূটনীতি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই যোগাযোগকে দেখা হচ্ছে। গত আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আব্বাস আরাগচি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে ও পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা কমাতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা ও আস্থা তৈরির ওপর। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ



