আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় রেকর্ড পতন স্বর্ণের দামে

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডলার ও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১১ সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা বাড়ায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। এতে মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একই সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেছেন, স্বর্ণবাজারের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত প্রত্যাশা, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। তার মতে, এসব কারণ বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। এর ফলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, যা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে অথবা প্রয়োজন হলে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এই প্রত্যাশা স্বর্ণবাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী তুলনামূলক বেশি মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। এর ফলে মূল্যবান ধাতুর পুরো খাতেই বিক্রির চাপ স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button