খুলনা নাগরিক সমাজের মানববন্ধন ও সমাবেশ

খবর বিজ্ঞপ্তি : বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সমাবেশ ও মানববন্ধন ২ মার্চ শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অ্যাড. আ ফ ম মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার। ধারণা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক ছাত্রনেতা, সিপিবি নেতা এস এম চন্দন। সংগঠনের অন্যতম সদস্য, নাগরিক নেতা এস এম দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা’র কো-অর্ডিনেটর অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) খুলনা জেলা আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব, সাবেক ছাত্রনেতা, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, কবি ও সাংবাদিক আবু আসলাম বাবু, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ্ মোঃ লায়েক উল্লাহ, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক রোটাঃ সরদার মোঃ আবু তাহের, নজরুল গবেষক, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, ছায়াবৃক্ষের প্রধান নির্বাহী মাহবুব আলম বাদশা, খোদেজা ফাউন্ডেশনের খ ম শাহীন হোসেন, সাইদুর রহমার পিণ্টু, সিপিবি সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, সুন্দরবন-নদী সংরক্ষণ ও দক্ষিণবঙ্গ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল তারেক তুষার, ফ্যাশন ডিজাইনার ও অভিনয় শিল্পী সুমা বড়াল, সিপিবি নেতা জাহানারা আক্তারী, যুব ইউনিয়ন নেতা শাহ্ ওয়াহিদুজ্জামান জাহাঙ্গীর, অ্যাড. আ ফ ম মুক্তারুজ্জামান মুক্তা, মোঃ বেলাল হোসেন, রোবার স্কাউট মোঃ আলী হোসেন অন্তর প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি না করে সেবা খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। অবৈধ সিন্ডিকেট, বে-আইনী মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ না করলে আকাশচুম্বী, নাগালবিহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ করা অসম্ভব। বক্তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের নতজানু নীতির সমালোচনা করে বলেন, কতিপয় অসৎ মুনাফালোভী লুটেরা শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অতিশয় লোভের কারণে সাধারণ জনগণের চরম নাভিশ্বাস। অন্যদিকে সরকারে সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের মধ্যে কারো কারো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ও ছত্রছায়ায় অসাধুচক্র অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য অসহনীয়ভাবে বৃদ্ধি করছে। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এ তুঘলকী কা- দেখা বা নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। সাধারণ মানুষের বাড়ি ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল, চিকিৎসা, ওষুধ খরচ, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যয়ভার, যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে, প্রতিটি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অথচ আয় বাড়েনি। নির্দিষ্ট ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সরকার উচ্চবিত্ত, ঘুষখোর, দুর্নীতি পরায়ণ, লুটেরাদের সাথে মিলিয়ে বলে থাকে, মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিতান্তই পরিহাস। সরকারকে এহেন ধারণা বা বক্তৃতা-বিবৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এ সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসৎ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সরকারকে রাহুমুক্ত করতে হবে। কর্মসূচির শুরুতে ১ মার্চ রাজধানীর বেলী রোডের অগ্নি ট্রাজেডিতে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে চরম অনিয়মের কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহতদের আরোগ্য কামনা করেন।



