খুলনার বাজার থেকে উধাও হওয়া সয়াবিন এখন কোথায়?

# বেড়েছে সব ধরণের মুরগির দাম #
# সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল #
কামাল মোস্তফা ঃ সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে খুলনায় উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল, বোতলজাত সয়াবিনের দেখা নেই গেল দেড় মাসের অধিক। সরকার খোলা ও বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করে দিলেও মানেনি ব্যবসায়ীরা। এদিকে থার্টিফাস্ট নাইটকে সামনে রেখে বেড়েছে সব ধরণের মুরগির দাম। চলমান এমন অতিপ্রয়োজনীয় ইস্যু রেখে ভোক্তা অধিকার ব্যস্ত কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অভিযানে, এমনটাই অভিযোগ ভোক্তাদের।
গেল দেড়মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের চরম সংকট। এই সুযোগে খোলা তেল বিক্রি হয় ১৯৫ টাকা কেজি দরে। সরবরাহ স্বাভাবিক করতে গেল ১০ ডিসেম্বর সরকার ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ০৮ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত তেলের দাম ১৭৫ টাকা ও খোলা তেলের দাম ১৫৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবুও বাজারে আসেনি স্বাভাবিক অবস্থা। উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল।
সরেজমিন খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকারের বেঁধে দেয়া দামের সময় প্রায় ১৫ দিন পার হতে চললেও বাজারে তার কোন বাস্তবায়ন নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি কোন দোকানে।
এদিকে খোলা তেলের দাম ১৪৯ টাকা থেকে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ নিধারিত দাম থেকে ৩৮ টাকা বেশি। নিরালা বাবুল স্টোরের মালিক, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানিগুলো কোন ধরণের বোতলজাত সয়াবিন তেল দিতে পারছেনা। খোলা তেল পেলেও দাম বেশি।
এদিকে বাজারে সব ধরণের মুরগির দাম বেড়েছে। নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা, যা কদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা দরে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে, যা কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেশি। লাল কক, লেয়ার, দেশি মুরগির দামও আগের তুলনায় বেশি।
নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের কেসিসি সন্ধা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে নতুন বছর ঘিরে নানান ধরণের অনুষ্ঠান, পিকনিক, বিয়ে ইত্যাদি থাকে। এসময় মুরগির চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় খামারিরা দাম বাড়িয়ে দেয়, তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
বাজারে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই এমনটা অভিযোগ করছিলেন সন্ধা বাজরে মুরগি কিনতে আসা আসরাফুল আলম। তিনি বলেন, গরীব মানুষ গরুর গোস্ত কিনতে না পেরে পোল্টি মুরগি দিয়ে তাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। সেই মুরগির দাম কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এভাবে দু’দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে যাবে এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকারের কঠোর হাতে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।
অভিযোগ দিলে তা আমলে না নিয়ে নিজেদের সুবিধামত অভিযান করেন ভোক্তা অধিকার এমনটা অভিযোগ ভোক্তাদের। সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে। চলমান এমন অতিপ্রয়োজনীয় ইস্যু রেখে তারা এই মুহুত্বে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অভিযানে ব্যস্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোক্তা জানান, আমি গেল ২৮ নভেম্বর একটি বিষয়ে অভিযোগ দেয়ার জন্য খুলনা জেলা ভোক্তা অধিকারকে জানাই। অভিযোগ দায়ের করবো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন স্বরেজমিনে তদন্ত করবেন। কিন্তু মাস খানেক অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখলাম না।
অন্য আরেকজন ভোক্তা জানান, কয়েকমাস আগে শহরের একটি বেকারিতে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা হচ্ছে মর্মে জেলা অফিসকে জানাই। বেকারির অবস্থান, প্রতারণার ধরণ সম্পর্কেও অবহিত করি। কিন্তু আমাকে জানানো হয় ওই নামে কোন বেকারির খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার তিনি এটাও বলেন ঐই প্রতিষ্ঠানকে একবার জরিমানা করা হয়েছে। তাহলে প্রতিষ্ঠানটি তিনি খুঁজে না পেলে জরিমানা করলেন কেমন করে।
খুলনা ভোক্তা অধিকারের সহকারি পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, আমরা নিয়মিতই অভিযান করে যাচ্ছি। তবে জনবল সংকট থাকায় অভিযান বিস্তৃত করা কঠিন হয়ে যায়। ইতিমধ্যে সরকার নির্ধারিত দামের বাহিরে যারা তেল বিক্রি করছেন তাদেরও জরিমানা করা হচ্ছে।



