স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে আলোচিত অঙ্কিতা ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায় বিচার চার বছরের পায়নি স্বজনরা

# কাল চতুর্থ হত্যা বার্ষিকী ঃ ন্যায় বিচার নিয়ে শংকিত পরিবার #

খলিলুর রহমান সুমনঃ খুলনা নগরীর দৌলতপুরে আলোচিত স্কুল ছাত্রী শিশু অঙ্কিতার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ন্যায় বিচার গত চার বছরের পায়নি স্বজনরা। হতভাগা মায়ের রাত কাটে সন্তানহারা বেদনায়। প্রতিবাদী সমাজও চেয়ে আছে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আশায়। এসবের মধ্য দিয়ে কাল বুধবার পালিত হতে যাচ্ছে অংকিতার চতুর্থ হত্যা বার্ষিকী। এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় খুনি প্রীতম রুদ্রের বিচার চেয়ে প্রতিবাদী পোস্টার সাটানো ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে নিখোঁজ হয় দৌলতপুর পাবলা বণিকপাড়া এলাকার জনৈক সুশান্ত দের কণ্যা অঙ্কিতা দে ছোয়া(৮)। সে স্থানীয় বিনা পানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নিকটস্থ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে তারা থানায় মামলা দায়ের করে। নিখোঁজ অঙ্কিতাকে না পাওয়ায় খুলনায় আলোচনার ঝড় ওঠে। নিখোঁজের ৬ দিন পর তার মরদেহ পাবলা বণিকপাড়া আলোচিত বীনাপানি ভবনের বাড়ির নিচতলার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ওই ভবন মালিক শিল্পপতি প্রভাত রুদ্রের ছেলে প্রীতম রুদ্রকে গ্রেপ্তার করে। এর পরেই হত্যাকান্ডের মোটিভ ঘুরে যায়। হত্যাক-ে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে প্রীতম। পরে ওই মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়। একই বছরের ১০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মিজানুর রহমান ধর্ষক ও খুনি প্রীতম রুদ্রকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নিহত অংকিতার হতভাগা বাবা সুশান্ত দে বলেন, তার শিশু কণ্যা ধর্ষণ ও হত্যার পর খুনি প্রীতমের ফাঁসির দাবিতে এলাকাসহ খুলনা নগরীতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন স্মরণকালের আন্দোলন করে। এ সময় আ’লীগের একটি অংশ ঘাতকের পক্ষ নেয়। তারা আদালতেও প্রভাব বিস্তার করে। অসহায় এ পরিবারটি অনেক চড়াই উৎড়াই পার করে অবশেষে আলোচিত শিশু অঙ্কিতা দে ছোঁয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার আসামি প্রীতম রুদ্রকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া লাশ গুমের অপরাধে ৫ বছর কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৫ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। খুলনা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মতিউর রহমান গত ২০২৪ সালের ২১ জুন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি পরিচালনা করছেন ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়–য়া ও আরিফুল ইসলাম। মামলাটি উচ্চ আদালতে শুনানীর পর্যায়ে রয়েছে। ন্যায় বিচার পাওয়ার লক্ষে বাদী উচ্চ আদালতে গেলেও কবে নাগাদ রায় পাবেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না নিহতের বাবা। এতে করে তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বাদী বলেন, দিন যত যাচ্ছে ঘাতক পরিবার আরো মারমুখী হয়ে পড়ছে। তাদের হুমকি ধামকিতে তারা তটস্থ হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে মামলার আপিল হয়ে নিয়ম অনুয়ায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামী কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবে। কিন্তু ধর্ষক প্রীতমকে খুলনার কারাগারে জামাই আদরে রাখার জন্য তথা কথিত যৌতুক মামলা দিয়ে তাকে খুলনায় রাখা হয়েছে। লম্পট প্রীতমের বউ বাদী হয়ে কাল্পনিক কাহিনী দিয়ে যৌতুক মামলা করেছে। যার নং-৯৯৬/২১। যা গত ৩০ ডিসেম্বর খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম ৩ আদালতে লম্পট প্রীতম রুদ্রকে হাজির করা হয়। শুনানী শেষে আদালত আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। অবিলম্বে এই কথিত যৌতুক মামলা বাতিল করে খুনী প্রীতমকে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের দাবি জানান নিহতের পিতা সুশান্ত। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কো অর্ডিনেটর এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য বাদী উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার রায় হয় ততই মঙ্গল। কারণ ন্যায় বিচার নিয়ে বাদী শংকিত। দৌলতপুর থানা বিএনপির সাঃ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন বলেন, আ’লীগের সময় কোন মামলারই ন্যায় বিচার পায়নি বিচার প্রার্থীরা। আদালত পতিত আ’লীগ সরকারের নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হতো। সে ক্ষেত্রে অংকিতা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ন্যায় বিচার হবে তা ভাবা যায় না। তাদের গতানুগতিক চরিত্রের বহিঃ প্রকাশ ঘটেয়ে এই শিশু হত্যা মামলার রায়ে। শিশু ধর্ষন ও খুন দু’টি জঘন্য ঘটনায় অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আদালতেকে ওই সময় জেলা আ’লীগের সাঃ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী খুনীর পক্ষ নিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করে রায় তাদের পক্ষে নিয়েছে। এ জন্য ধীক্কার জানাই। একই সাথে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য বাদী উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আদালত এবার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদী । উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারী দৌলতপুর পাবলা বণিকপাড়ার সুশান্ত দের কন্যা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী অঙ্কিতা দে ছোয়া নিখোঁজ হয়। পরিবারসহ এলাকাবাসী অনেক খোঁজাখুজি করে এক পর্যায় ২৮ জানুয়ারী ওই এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তি প্রভাত রুদ্রের চারতলা বাড়ীর নিচতলার বাথরুমে অঙ্কিতা দে ছোয়ার লাশ বস্তা বন্দি প্রায় গলিত অবস্থা পাওয়া যায়। এলাকাবাসী বসবাসরত সকল পরিবারের নারী পুরুষ এক সভা করে প্রভাত রুদ্রর পরিবারকে বয়কট করার ঘোষণা দেন। যা এখনও চলমান। সব কিছুই স্বাভাবিক হতে চললেও নিহতের হতভাগা পিতা-মাতা এখনও অঙ্কিতার স্মৃতি বুকে নিয়ে ফিরছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button