স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে চাঁদা দাবি ও হুমকিতে বন্ধ ‘চয়নিকা’ ফার্মেসি

স্টাফ রিপোর্টার : এবার নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ওষুধের দোকান ‘চয়নিকা ফার্মেসি’র মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফার্মেসি বন্ধ রেখেছেন মালিকপক্ষ এবং ব্যবস্থাপকও বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ৫ দিন আগে খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান পরিচয়ে চয়নিকা ফার্মেসির ম্যানেজার বাবুর কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ফার্মেসির মালিককে বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ম্যানেজার তখন তাদের জানান যে তিনি কেবল একজন কর্মচারী। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসী সরাসরি ফার্মেসিতে এসে চাঁদার টাকা প্রস্তুত না রাখলে ম্যানেজার বাবুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর থেকে ফার্মেসি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চয়নিকা ফার্মেসির মালিকের বাড়িতে গেলে প্রথমে তার অনুপস্থিতির কথা জানানো হলেও পরে তিনি জানালার আড়াল থেকে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। মিয়াপাড়া সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় থাকেন ম্যানেজার বাবু। সেখানে গিয়ে তার ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। প্রতিবেশীরা জানান, কবে কখন তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, তা তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ফার্মেসির আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত তারা গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখেন। কিন্তু গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে চয়নিকা ফার্মেসি বন্ধ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবারও কোনো দোকান খোলা হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগীরা নির্দিষ্ট করে কারো নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাননি এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে চাঁদা না দেওয়ায় নগরীর কুইন্স হাসপাতাল, সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চাইনিজ প্যালেসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button