স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় সবজিতে স্বস্তি : মাছ-মাংসের বাজার চড়া

কামাল মোস্তফা : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করেই বাড়তে থাকে মুরগির দাম। বিশেষ করে দামে ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে ব্রয়লার মুরগি। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সহজলভ্য আমিষের উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও এখন নাগালের বাইরে। এতে পরিবারের জন্য নূন্যতম আমিষ কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের মাছের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে একসময়ের কম দামের পাঙাশও এখন ছুঁয়েছে প্রায় তিনশ টাকা। এমন অবস্থায় বিক্রেতারা বলছেন খুব শিগগিরই দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে নগরীর গল্লামারী বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮০-২৯০ টাকা, এবং দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। শীতে এর সঙ্গে বাড়তি চাহিদা রয়েছে হাঁসের। প্রতিকেজি রাজহাস হাঁস ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বেশি দাম নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, শীতের দিনে ঠান্ডার কারণে মুরগির বাচ্চা অসুস্থ হয় বেশি। ফলে লোকসানের সম্ভাবনায় খামারিরা বাচ্চা কম তোলেন। যার কারণে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী যোগান কম থাকে। সেজন্য পুরো সময়জুড়ে চাহিদার চেয়ে যোগান কম থাকে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়। এরসঙ্গে অন্য মুরগির দামও বেশি থাকে। ময়লাপোতা কেসিসি সন্ধা বাজারের বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, সবসময় ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। তবে শীত শুরুর পর দাম বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পর্যাপ্ত মুরগি নেই। সেজন্য এখন দাম বেশি। শীত শেষ না হলে বাজারে পর্যাপ্ত মুরগি আসার সম্ভাবনাও কম। তাই দাম কমার সম্ভাবনাও কম। আনোয়ার হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, আমাদেরকে পাইকারি মার্কেট থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। ব্রয়লার গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন ২২০ টাকা বিক্রি না করলে লাভ কিছুই থাকে না। আর অন্য জাতের মুরগিগুলো তো এমনিতেই সবসময় দাম বেশি থাকে।
এছাড়া গরুর মাংস ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা দমে বিক্রি হচ্ছে। ছাগল-খাসির মাংস ৯০০-১১০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ। তেলাপিয়া কিংবা পাঙাশ, কার্ফু কিংবা ব্রিগেড দাসব মাছের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। একটু বড় সাইজের পাঙাশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৭০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি বড় রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, মাঝারি রুই মাছ ৩০০-৩৩০ টাকা, কাতলা মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা, ছোট পাঙাশ মাছ ১৮০-২০০ টাকা, পাবদা মাছ (আকারভেদে) ৪০০-৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি (আকারভেদে) ৬৫০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সবজির বাজারে মিলেছে স্বস্তি, কিন্তু কৃষকদের দাবি তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে সবজির। বাজার ঘুরে জানা যায়, সম্প্রতি কাঁচামরিচের দামে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট থাকলেও এখন স্বস্তি ফিরেছে। মাত্র ৪০-৫০ টাকা কেজিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাঁধাকপি ১০ টাকা, ফুলকপি ১৫, পেঁয়াজ পাতা ১০, টমেটো ৩০, বেগুন ২০, শিম ২০, মিষ্টি কুমড়া ১৫, করলা ৪০, মটরশুঁটি ৭০, গাঁজর ৪০, কাঁচকলা ২০, মুলা ১০, কুমড়া ৪০, শসা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু ১৫ টাকা হালি ও লাউ আকৃতি ভেদে ২০-৪০ টাকা পিস হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আলু ২২ টাকা ও দেশি ছোট আলু ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, শীতকালে সবজির দাম কম থাকে, সে হিসেবে কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফিরেছে; কিন্তু মাছ-মাংসের বাজার চড়া। গরীবের আমিষের চাহিদা পূরণ হয় অনেকাংশে ব্রয়লার মুরগি দিকে, কিন্তু সেটার দাম বেশি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button