স্থানীয় সংবাদ

কেএমপির সুধী সমাবেশের সুফল মিলছে লবণচরা থানা এলাকায়

আত্মবিশ্বাসী হয়ে থানায় অভিযোগ ও তথ্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ
গত চার মাসে চারটি স্বর্ণের চালান উদ্ধার
২৪ ঘন্টায়ে ফেনসিডিল , ইয়াবা উদ্ধার।
এক ঘন্টার ব্যবধানে বলাৎকারকারি গ্রেফতার

আনিছুর রহমান কবির ঃ সুধী সমাবেশের সুফল মিলতে শুরু করেছে লবনচরা থানা এলাকায় । পাড়া মহল্লায় কেএমপির সুধী সমাবেশ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরছে। থানায় অভিযোগ সহ মাদক কারবারি ও অপরাধীদের তথ্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। লাবনচরা থানা তথ্য মতে , সুধী সমাবেশের পর সাধারণ মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার লক্ষ্যে থানার বিভিন্ন অফিসারের নাম্বার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় দেওয়ায়, আগের তুলনায় অনেক বেশি থানায় অভিযোগ এবং গোপন তথ্য আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্য ও পুলিশের বিশেষ ভূমিকায় লবণচরা থানা পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায় ৩৮ বছর ফেন্সিডিল দুইটি মোটরসাইকেল সহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এছাড়া এস এস আর স্কুলের মারকাজুল ফুরকান হাফেজী মাদ্রাসার হাফেজী বিভাগের শিক্ষক হাফেজ শাহরিয়ার শেখ (২৪) নামের এক শিক্ষক এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করার অভিযোগের এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয় বলাৎকারী অভিযুক্ত হুজুরকে। গত চার মাসে টানা চারবার লবণচরা থানা এলাকায় থেকে বিশেষ কায়দায় বহন করার সময় অবৈধ স্বর্ণের বার হয়েছে। কেএমপি, লবণচরা থানা পুলিশের অভিযানে ৩৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ উদ্ধার সহ ১জন আটক। খুলনার লবণচরা থানাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিপরীত পাশে “কাজী ফার্মস লিমিটেড” এর সামনে পাকা রস্তার পাশে ফুট পাতের উপর হইতে সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের বাসিন্দা আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ হারুন-অর-রশিদ (৩৮) কে রাত আটটার দিকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে লবণচরা থানার মামলা নং-১৯, তারিখ-২২/০১/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬ (১) সারণির ১৪(খ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধ অভিযানে একদিন রাত দশটার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চানমারি এলাকার বাসিন্দা পারভিন সুলতানার বাড়ির ভাড়াটিয়া শামসুর রহমান শেখ এর পুত্র মোঃ সোহাগ শেখ (৪৫) কে ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্তে লবণচরা থানার মামলা নং-২০, তারিখ-২২/০১/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬ (১) সারণির ১৪(খ) আইনে মামলা করা হয়। লবনচরা থানাধীন বিশ্বরোড লবনচরা থানার পাশে পিতা- জাকির হোসেন, সাং নরসিংহপুর, থানা- মোল্লারহাট, জেলা বাগেরহাট এর বিরুদ্ধে হাফেজী শাখার ছাত্র ওমর ফারুক, পিতা-মারুফ হোসেন। মুক্তার হোসেন রোড, লবনচরা খুলনা বলাৎকারের অভিযোগ আনেন। বলাৎকারের অভিযোগ থানায় গেলে থানা পুলিশ অত্র মাদ্রাসায় আসিয়া অভিযোগকারী শিক্ষককে থানা পুলিশ ১১:৩০ মিনিটে গ্রেপ্তার করেন। অভিযোগকারী ছাত্রের সঙ্গে কথা বলিয়া জানা যায় এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ আরো অনেক ছাত্রের সঙ্গে করে বলিয়া জানা যায়। হাফেজ শাহরিয়ার অত্র মাদ্রাসায় চার মাস আগে যোগদান করেন। ওমর ফারুক রাত ১১ টার দিকে তার বাবা-মার সঙ্গে ঘটনাটি বললে তাহারা থানায় আসিয়া অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে লবনচরা থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত আছেন। এ বিষয়ে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া গতকাল লবণচরা থানা পুলিশের অভিযানে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫ গাঁজা সহ ০২ (দুই) জন আটক করে থানা পুলিশ।
সংক্রান্তে লবণচরা থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-২১/০১/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬ (১) সারণির ১৯(ক) ও ৩৬ (১) সারণির ১০(ক) মামলা দায়ের করা হয়। লবনচরা থানায় এলাকার বাসিন্দা মনিরা আক্তার বলেন, আমার মা হারিয়ে গিয়েছিল, আমি ছোট্ট একটা মাইক নিয়ে মাইকিং করছিলাম। লবণচরা থানার ওসি স্যার এটা দেখে আমাকে ডেকে নিয়ে তার অফিসে বসিয়ে আমার মায়ের ছবি সব জায়গা ফ্যাক্স করে দেয় এবং অবশেষে আমার মাকে ওসি স্যার এর সহযোগিতায় খুঁজে পাই। এমন মানবতার ওসি আমরা চাই এ বিষয়ে খুলনা নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুধী সমাবেশ সাধারণ মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে পুলিশের প্রতি। কারণ বিভিন্ন অফিসাররা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং তাদের মনের কথা শুনছেন। এখানে থাকছে না কোন চেয়ার টেবিল। যার কারনে সকলেই এক কাতারে মিলেমিশে আলোচনা করতে পারছেন এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এবিষয়ে লবনচরা থানায় এলাকার বাসিন্দা নিউটাউন আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা আগে কখনো ভাবতে পারিনি যে পুলিশ সাধারণ মানুষের সাথে কোন চেয়ার-টেবিল ছাড়াই মিটিং করবে। এবং পুলিশের প্রত্যেক সদস্য তাদের নাম্বারগুলো আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন এবং যে কোন বিপদ আপদ ভালো-মন্দে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিচ্ছেন। এজন্যই আমরা গোপন তথ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হচ্ছে।
লবণচড়া থানা এলাকার ব্যবসায়ী আবুবক্কার এন্টারপ্রাইজের মালিক মেহেদী হাসান রাজু বলেন, ৫ ই আগস্টের পর ব্যবসা করতে অনেকটা আতঙ্কে ছিলাম আমরা। কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় লবণচড়া থানার পক্ষ থেকে একটি সুধী সমাবেশ করা হয়। এখানে থানার ওসি আমাদের প্রত্যেকের নাম্বার দিয়ে যান এবং বলেন থানায় কোন অভিযোগ করতে কিবা জিডি করতে কোন টাকা লাগবে না এবং কেউ যদি ভয়-ভীতি দেয় তাহলে সাথে সাথে তার নাম্বারে ফোন দিতে অনুরোধ করেন। এবং ওসি সাহেবের দরজার সবার জন্য সব সময় খোলা বলে তিনি জানান। এজন্য আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সামনে ওসি সাহেবের নাম্বারটা ঝুলিয়ে রেখেছি যাতে চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীরা আতঙ্কে থাকে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, পুলিশ জনতার ,জনতা পুলিশের এই বক্তব্যটা এতদিন মিথ্যা হলেও এখন আমরা সত্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছি। আমরা কম খরচে চেয়ার টেবিল ছাড়াই জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি প্রত্যেক থানায় ব্যানার করে দিয়েছি এবং তাতে এসএস পাইপ দিয়ে ইস্টার্ন দিয়েছি যা নষ্ট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। অল্প খরচে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সুধী সমাবেশে চেয়ার টেবিল না রাখার কারণ হচ্ছে, মধ্যখানে একটি চেয়ার টেবিল থাকলে জনগণের সাথে দূরত্বটা বাড়ে। আমরা জনগণের সাথে দূরত্বটা বাড়াতে চাচ্ছি না। এছাড়া আমার পুলিশ সদস্যরা যাতে অফিসে বসে না থেকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার অভ্যস্ত হয়, এজন্যই এই সুধী সমাবেশ করা। শুধু থানা পুলিশ নয় ,পুলিশের সকল দপ্তরে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। লবণচড়া থানার সাফল্যের বিষয়ে তিনি বলেন আমার সকল পুলিশে যোগ্যতা সম্পন্ন , সুতরাং আমার পুলিশের সহযোগিতায় আমি খুলনাকে নতুন রূপে সাজাতে চাই তারই অংশ হিসেবে এই সাফল্য।লবনচরা থানার এই সাফল্যকে স্বাগত জানাই লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুজ্জামান বলেন, পুলিশ কমিশনার স্যারের নির্দেশে আমরা আমাদের এলাকায় সুধী সমাবেশ করি। ইতিমধ্যেই সুধী সমাবেশের অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছি আমরা। সরাসরি সকল স্তরের মানুষ আমার দ্বারপ্রান্তে আসছে এবং তাদের গোপন তথ্য দিচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের তাৎপরতা বেড়েছে এবং স্যারের দিকনির্দেশনায় ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ,ইয়াবা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছি ।আমি যোগদানের চার মাসে চার চারটি বড় স্বর্ণের চালান ধরেছি। আপনারা জানেন আগে স্বর্ণের বার উদ্ধার হলে মিডিয়াদের পরে দেখা হতো এখন আমি পৌঁছানোর আগেই আপনারা লাইভ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এটাই স্বচ্ছতা এমন দিক নির্দেশনা আমাদের কেএমপি পুলিশ কমিশনার আমাদেরকে দিয়েছেন। আশা করি জনগণের বন্ধু হয়ে লবনচরা থানাকে মাদকমুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত করব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button