অগণতান্ত্রিক পরিবেশে অপশক্তি বেড়ে ওঠে, অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন

# খুলনায় পদযাত্রায় কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স #
# কর্মসংস্থান, রেশন ও ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু করুন #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্র ঘোষিত ২১-২৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২৫, খুলনা রূপসার দাদা-ম্যাচ এর সামনে থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত পার্টি খুলনা মহনগর আয়োজিত পদযাত্রা ও গণ সংযোগে অংশ নেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স।
এ সময় তিনি খুলনার শিল্পাঞ্চল ধ্বংসের সমালোচনা করে বলেন, অতীতের সরকারগুলো খুলনাকে শিল্পহীন নগরীতে পরিণত করেছে। দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের যে সম্ভাবনা ছিল তা কাজে লাগানো হয়নি। বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্পের নামে লুটপাট অব্যাহত রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গাচোরা রাস্তার মধ্যেই নগরবাসী বসবাস করছে। এ অঞ্চলের গরীব মেহনতী মানুষের কোন উন্নয়ন ঘটেনি। বস্তি আর রাস্তায় হকারের সংখ্যা কমছে না। রিক্সা অটোরিকশা চালিয়েই জীবন রক্ষার চেষ্টা করছে অনেকে, অথচ যাত্রী পাচ্ছেন না। এ অবস্থা থেকে সব মানুষের বসবাসযোগ্য খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চল গড়ে তুলতে পুরো উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এর জন্য ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামকে অগ্রসর করতে হবে। একমাত্র নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তি এই কাজটি করতে পারবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনে পরিবারতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র আর কর্তৃতবাদী গোষ্ঠীর কাছে সারা দেশবাসীর মত এ অঞ্চলের মানুষও জিম্মি ছিল। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ অবস্থার আপাতত অবসান হলেও এ অবস্থাকে স্থায়ী করতে খুলনাবাসীকে সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বর্তমান সরকারের নিত্যপণ্যের উপর ভ্যাট-কর বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এ সরকারের কাছে স্বস্তি চাইছিল। কিন্তু এই সরকার পুরনো ব্যবস্থা বহাল রেখে মানুষের জীবনে অশান্তি ডেকে আনছে। সিন্ডিকেট বহল আছে, পাচারের টাকা ফেরত আনার খবর নেই। খেলাফি ঋণের পুনঃতফসিল করা হচ্ছে। কোন কোন মহল ‘মব’এর নামে নানা ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করছে। যা গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে নানা ধরনের অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। তারা দেশকে আরো অশান্ত করতে চাইবে। তিনি গণতন্ত্রের ধারা এগিয়ে নেয়ার জন্য অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।
তিনি বলেন, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া চলবে। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার করা দরকার ততটুকু করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। আর অন্যান্য বিষয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কি কি সংস্কার করা যায় তা সরকার সুনির্দিষ্ট করতে পারে। এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের সময় পর্যন্ত কিছু কাজ শুরু করে যেতে পারে। যাতে ওইসব কাজ চলমান থাকে। জনগণের উপর বিচারের ভার ছেড়ে দিতে হবে। কোনো গোষ্ঠী যদি জনগণের পক্ষে দায়িত্ব পালন না করে, সাধারণ মানুষই তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে কৃষক শ্রমিকসহ মেহনতি মানুষ। অথচ এই কৃষক ফসলের লাভজনক দাম পাচ্ছে না। সব শ্রমিকের কাজ নেই, আবার যাদের কাজ আছে তাদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি অবিলম্বে সকলের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি, সারাদেশে রেশন ব্যবস্থা, ন্যায্য মূল্যের দোকান ও জাতীয় বেতন স্কেল চালুর দাবি জানান। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জানমালের নিরাপত্তা, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণাসহ সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠায় সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’র দ্বিতীয় দিনে আজ ২২ জানুয়ারি খুলনায় রূপসার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির সামনে থেকে শিববাড়ী অভিমুখে পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
পদযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, সাধারণ সম্পাদক এস এ রশীদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল হান্নান, খুলনা মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য মিজানুর রহমান বাবু, অ্যাড. চিত্তরঞ্জন গোলদার, ডা. এস এম ফরিদুজ্জামান, সিপিবি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, সুখেন রায়, গাজী আফজাল হোসেন, আব্দুল হালিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংশুক রায়, অ্যাড. প্রীতিষ ম-ল, মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, শিশির সরকার, শাহীনা আক্তার, ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার ভূষণ চন্দ্র তরুণ, হুমায়ুন কবির, ফরহাদ হোসেন মিটন, মীর ওবায়দুর রহমান, শরীফুল ইসলাম সেলিম, শহিদুল ইসলাম, অ্যাড. খান আজরাফ হোসেন মামুন, অশোক ম-ল, দুলাল সরকার, অশোক ঘোষ, শ্রমিকনেতা সাইদুর রহমান বাবু, দীন মোহাম্মদ, যুবনেতা ধীমান বিশ্বাস, মোফাশের আলম লেনিন, সৈয়দ রিয়াসাত আলী রিয়াজ, হরষিৎ ম-ল, রামপ্রসাদ রায়, তুষার বর্মণ, জামাল হোসেন, তুষার দত্ত, ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম, সুদীপ্ত রায়, তনুশ্রী, প্লাবন চন্দ্র চন্দ, জাহিদুল ইসলাম, রবীন ম-ল, আনিসুর রহমান, রাজু আহমেদ, মোঃ আজম, তন্ময় রায়, মোঃ রায়হান, সৈকত, আকাশ প্রমুখ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আপনারা গত ৫৩ বছরে বিভিন্ন দলের শাসন দেখেছেন। এরা যেসব নীতিতে দেশ পরিচালনা করেছে তাতে সাধারণ মানুষের মুক্তি আসেনি। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে অবস্থার বদল করতে হবে। সামাজিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য নীতিহীন রাজনীতিকে ‘না’ বলে, নীতিনিষ্ঠ রাজনীতির পতাকা তলে সমবেত হতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এই খুলনা অঞ্চলে বামপন্থী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জনস্বার্থে কাজ করে যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা আজও চলমান আছে। এ অঞ্চলের মানুষকে এই রাজনীতির পতাকা তলে সমবেত হয়েই সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলকে বৈষম্যমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কাজকে অগ্রসর করতে হবে। এ সময় রাস্তার দু’পাশের মানুষ আগ্রহভরে সিপিবি নেতৃবৃন্দের কথা শোনেন এবং মতবিনিময় করেন। পদযাত্রা ও গণসংযোগে নেতৃবৃন্দ পার্টির প্রচারপত্র বিলি ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন।
আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত খুলনা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পদযাত্রা ও গণসংযোগ চলবে। এসব কর্মসূচিতে সিপিবি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অংশ নেবেন।



