স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে আগুনে পুড়ে ৪৫ অস্থায়ী দোকান ছাই

৫০ কোটি টাকার মত ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর প্রাণ কেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ের অস্থায়ী মার্কেটে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ভোর সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে অস্থায়ী ৪৫ দোকান পুড়ে যায়। এতে ৫০ কোটি টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে মার্কেট কমিটি জানান। তবে ফায়ার সার্বিসের গাড়ি আসতে দেরী হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়েছে বেল ক্ষতিগ্রস্ত দোকানীরা জানান। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ইউনিট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় ৬টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খুলনা সদর থানার ওসি সানোয়ার হোসেন মাসুম জানান, ভোরে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আগুনে বেশ কিছু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী সোহাগ খানসহ অন্যরা জানান, পিকচার প্যালেস সিনেমা হলের জমিতে ‘পিকচার প্যালেস সুপার মার্কেট’ নাম দিয়ে এক বছর ধরে ৪৫টি দোকান বসিয়ে তারা ব্যবসা করছিলেন। অপরিকল্পিত এ মার্কেটে সব ধরনের ঝুঁকি ছিল। ভোরে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত বের হয়ে আসেন। দেখতে দেখতে আগুন প্রতিটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে গেছে। ৪৫টি অস্থায়ী দোকানের মধ্যে কাপড়, কসমেটিক ও ক্রোকারিজের দোকান ছিল। অপর ব্যবসায়ী খোকন শান্ত বলেন, মার্কেটে তার ৫টি দোকান ছিল। আগুনে পুড়ে তার কোটি টাকার মালামাল ছাই হয়ে গেছে। দেনা করে, লোন করে এবং বাকীতে এসব মালামাল দোকানে ওঠানো হয়। আগুনে সব নিয়ে গেল। তবে ফায়ার সার্ভিস আগেভাগে আসলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হতো বলে তিনি জানান। অপর ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, তার ছিলো ফুলের দোকান। আগুনে চার লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয় বলে তিনি জানান। মিলন মুন্সী বলেন, এ মার্কেটে তার সাতটি দোকান ছিল। অধিকাংশই কসমেটিকস। আগুনে তার ৮০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি দাবী করেন। তবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে দোকানীরা মনে করেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সুমন জানান, মার্কেটে মোট ৪৫টি দোকান ছিল। এর মধ্যে ১৫টি কাপড়ে, ২০টি কসমেটিকস এবং ১০টি অন্যান্য। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা বলে তারা দাবী করেন। তবে মার্কেটের আশেপাশে ফার্নিচারের দোকানসহ কয়েকটি দোকানে কমবেশী ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পরে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মা ও সাঃ সম্পাদক তুহিনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারপরপরই ঘটনাস্থলে যায় মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও আসাদুজ্জামান মুরাদের নেতৃত্বে বিএনপির একটি টিম। উভয় টিম আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ জন্য তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা চেয়েছেন। একই ভাবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা কদরুল হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button