খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের বন্দনা গাইছে

# দাপ্তারিক চিঠিতে শেখ হাসিনার শ্লোগান ও মুজিব বর্ষের লোগো #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এখনো চলছে পতিত সৈ¦রাচারী সরকারের বন্দনা গাইছে। শেখ হাসিনার শ্লোগান ও মুজিব বর্ষের লোগো ব্যবহার করে জারি করা হচ্ছে পত্র । খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম স্বাক্ষরিত ১৩ এপ্রিলের স্বারক নং- ৮৬১ পত্রে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” শ্লোগান ও মুজিব বর্ষের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের নির্দেশে বাগেরহাট পিটিআই এর কর্মরত আইসিটি ইন্সট্রাক্টর প্রভাষ কুমার বিশ^াসের নামে উঠা বুলিং-টিজিং এর অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। আগামী ২৪ এপ্রিল বাগেরহাট পিটিআই-এ তদন্তে উপস্থিত হওয়ার জন্য দু’পক্ষকে পত্র দেন ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা। খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ঐ তদন্তের পত্র ই-মেইলে প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক অফিস, বাগেরহাট পিটিআই, বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাঝে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চাপের মুখে ঐ তদন্ত পত্র সংশোধনী দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযুক্ত ইন্সট্রাক্টর প্রভাষ কুমার বিশ^াস সাংবাদিকদের জানান, খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বাগেরহাট পিটিআই এর ই-মেইলে পাঠানো তদন্তের পত্র তিনি গত ১৬ এপ্রিল রিসিভ করেন। ঐ পত্রে “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” শ্লোগান ও মুজিব বর্ষের লোগো ছিল। এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রায়হান হোসেন বলেন, খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হতে তার অফিসের মেইলে পাঠানো ঐ তদন্তের পত্রে শেখ হাসিনার শ্লোগান ও মুজিব বর্ষের লোগো ছিল। যা তিনি মেইলে দেখেছিলেন। পরে সংশোধনী দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, শেখ অহিদুল আলমের এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন ভীষণ বিব্রত। এর আগে তার বিরুদ্ধে উঠা বিএড ডিগ্রী ছাড়া অবৈধ পদোন্নতি, বিধি বহির্ভূতভাবে বদলী, সন্তোষ জনক পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই ২৩ শিক্ষকের চাকুরি স্থায়ীকরণ, আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল তদন্ত করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোঃ আতিকুর রহমান। এদিকে, দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ শ্যামাপদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শীলা রায় পাইকগাছা উপজেলায় বদলী হওয়ার জন্য চলতি বছরে অনলাইনে আবেদন করেন। ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী পাইকগাছা উপজেলার বহিরাগত শিক্ষকের হার ৩.৭৫%। তার বদলীর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তথ্য যাচাই করে সুপারিশ করা হয়। অথচ ঐ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পাইকগাছা উপজেলায় বহিরাগত শিক্ষকের হার ১০% দেখিয়ে ঐ শিক্ষিকার বদলীর আবেদন বাতিল করেন। এ বিষয়ে শিক্ষদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সূত্র জানায়, তার সরকারি পদবী ব্যবহার করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি জনৈক জালাল উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার ফলে আগামী ২১ এপ্রিল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের বিচারক শেখ অহিদুল আলমকে আদালতে হাজির করার জন্য সোনাডাঙ্গা থানা ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করার জন্য গত ৪ জুন’২৪ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, খুলনা ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।



