স্থানীয় সংবাদ

সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই বারবার জনগণের ওপর জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও দেশের বাজারে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম হঠকারীভাবে বাড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে; অবিলম্বে এই গণবিরোধী ও জনরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহীদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম প্রমুখ । সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের সমাপ্তিলগ্নে বক্তারা পুনরায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যদি এই অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত প্রত্যাহার করা না হয়, তবে দেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাজপথের সংগ্রাম থেকেই এই গণবিরোধী সিন্ডিকেটকে প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন নেতারা।
মহানগরী আমীর বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নেমেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে দেশের কৃষির ওপর। সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে আজ কৃষক দিশেহারা। সার ও বীজের বাড়তি দামের সাথে তেলের দাম যুক্ত হওয়ায় ফসল উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তিনি আরও করেন, কলকারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ায় শিল্প খাত আজ গভীর সংকটে রয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। চাল, ডাল, তেল, শাকসবজিসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের বাজার আজ আগুন। খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাপন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ সরকার অযৌক্তিক অজুহাত দেখিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধি করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পকেট কাটা নীতি বন্ধ করে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।
মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকার হঠাৎ করেই ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জনরোধী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিটি খাতের ব্যয় হু হু করে বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের সেচ পাম্পে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা আজ দিশেহারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button