খুলনার এপিসি স্কুলের অফিস সহকারী মমিনুরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

# দৈনিক প্রবাহে সংবাদের জের #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর লবণচরায় অবস্থিত ‘এপিসি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মমিনুর রহমান ওরফে মমিন হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় হাজতবাসের ঘটনায় দৈনিক প্রবাহে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে খুলনা জেলা শিক্ষা দপ্তর। মমিনুরের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার এস. এম. ছায়েদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতোয়ালী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মমিনকে উক্ত ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কম্পিউটার অপারেটর মমিনুরের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। এগুলো হলো- ওষুধের দোকানের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি, অর্থ আত্মসাতের একাধিক ঘটনা এবং দুটি মামলা দায়ের ও কারাগারে যাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া। প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
চিঠির অনুলিপি খুলনার জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (খুলনা অঞ্চল)-এর উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরেও অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার এস. এম. ছায়েদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সদর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, শীঘ্রই তদন্ত শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্টদের নোটিশ করে ডাকা হবে এবং তাদের বয়ান নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ওই স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজমান। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে আমরা কাজ করছি। উল্লেখ্য, মমিনুরের বিরুদ্ধে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। থানা পুলিশ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে, গত ২৪ আগস্ট মোমিন একটি মামলায় কারাবরণ করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা অফিস তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে বহাল তবিয়তে চাকরি, ব্যবসা এবং প্রতারণা করছেন মমিনুর। উল্টো তিনি পাওনাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন। যদিও ইতিমধ্যে তার দায়েরকৃত একটি হয়রানিমূলক মামলা পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিএম আল আমিনও মমিনুরের কারাবরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



