উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে

# জনউদ্যোগ খুলনার সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক নেতৃবৃন্দ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে। লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের অকাল গর্ভপাত, প্রজননতন্ত্রের সমস্যা, ঋতুচক্র জনিত সমস্যাসহ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপকূলীয় এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোরী ও নারীরা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা যাতে তাদের পরিবারও চিকিৎসকদের কাছে নিরাপদে তুলে ধরতে পারে এরকম সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। জরায়ুুমুখে ক্যান্সার হচ্ছে কি না তারজন্য বায়োপসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। লবণাক্ততার কারণেই জরায়ু ক্যান্সার বাড়ছে কি না, এ বিষয়ে আরও বেশি সরকারিভাবে গবেষণা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে সহজে মিষ্টিপানির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে শরীরের প্রয়োজনীয় পানির ব্যবহারের নিশ্চিত করতে পারে। এই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সচেতনতা তৈরি করতে উঠান বৈঠকসহ নানা পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলীয় নারীর জীবন-জীবিকা ঝুঁকিমুক্ত করতে নিতে হবে নানা উদ্যোগ। জনউদ্যোগ,খুলনার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় খুলনা আর্ট স্কুলের মিলনায়তনে জনউদ্যোগ,খুলনার আয়োজনে উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আফম মহসিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জনউদ্যোগ, খুলনার আহবায়ক মানস কুমার রায়, নাগরিক নেতা মাসুদ মাহমুদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, খুলনা পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, রাইটার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুন নাহার হীরা, পড়শী সাহিত্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণা দাস, খুলনা আর্ট স্কুলের পরিচালক বিধান চন্দ্র রায়, জনউদ্যোগ,খুলনার সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। গত কয়েক দশকের হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে লবণ পানি ব্যবহার করেছে। এর প্রভাবে নারীর স্বাস্থ্যে, তাদের মাসিক চক্রে গোলমাল দেখা দিচ্ছে। নারীরা কোমরপানিতে নেমে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা চিংড়িপোনা সংগ্রহ করেন। চর ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারীরা সহজে স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পান না। সুপেয় পানির জন্য তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। নিজে লবণাক্ত পানি খেয়ে বা কম পানি খেয়ে পরিবারের অন্যদের পান করার জন্য পানি রাখেন। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, প্রি-একলাম্পশিয়া এমনকি গর্ভপাতের শিকার হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলে জরায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এসব এলাকার নারীরা। সেজন্য অল্প বয়সেই এ এলাকার নারীরা জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের আরও একটি অভিঘাত হচ্ছে ক্রমেই তাপপ্রবাহ বেড়ে চলা। এখানেও নারীদের বিপন্নতা বেশি তাদের পোশাকের কারণে। কারণ অনেক রকম পোশাকে নারী ঢেকে রাখে শরীর। ফলে অত্যধিক তাপপ্রবাহ নারীর হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। আবার এই তাপপ্রবাহের মধ্যে রান্নাঘরে অনেকটা সময় কাটাতে হয়, যেখানে ধোঁয়া ও তাপ ছাড়াও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে নারীরা হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া পোশাকের কারণে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীর মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি দেখা দিয়েছে। তাই উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্য ও জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারকে নিতে হবে নানা উদ্যোগ।



