অসহনীয় গরমে হাঁফিয়ে উঠছে মানুষ

# খুলনা বিভাগের সর্ব্বোচ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গা ৩৮.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস,
# খুলনায় ৩৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভবনা #
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ তাপমাত্রার পারদ থেমে নেই, দিন দিন বাড়ছেই। অস্থির তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা খুলনা অঞ্চল। গ্রীষ্মের এই তাপদাহে অতিষ্ট পড়েছে জনজীবন, জনপদ। অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে প্রাণীকুল, জীব-বৈচিত্র। সূর্যের উত্তাপে অস্থির গরমের অনুভূত হচ্ছে। তীব্র এই প্রখরতায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে চারপাশে, রোদের উত্তাপে চোখ-মুখ পুড়ে যাচ্ছে। চলমান তাপপ্রবাহে নিম্ন আয়ের শ্রমমজীবী নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, ইজিবাইকচালক ও রিকশা ভ্যানচালকদের গরমে নাভিশ্বাস উঠছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারনে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তীব্র গরমের কারনে খুলনা শিশুরা হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারনত গ্রীষ্মকালে ৩৬-৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপ প্রবাহকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮-৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপ প্রবাহকে মাঝারী তাপ প্রবাহ এবং এর উপরে তাপ প্রবাহকে বলে তীব্র তাপ প্রবাহ। মঙ্গলবার (১৩ মে) খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি ডিগ্রী সেলসিয়াস। খুলনা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রী, যশোর ৩৮ দশমিক ৬, মোংলায় ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সাতক্ষীরা ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস ডিগ্রী সেলসিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন আগামী ২/১ মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কমে যাবেও বলে জানান তারা। মঙ্গলবার (১৩ মে ) দুপুরে তীব্র রোদ্দুর উপেক্ষা করে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসহ্য গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে জীব-বৈচিত্র অস্থির হয়ে ওঠে। রোদের উত্তাপে বাইরে বের হলেই যেন চোখ মুখ পুড়ে যাচ্ছে। ছুটে চলা কর্মব্যস্ত নগরবাসী, পথচারী, বিভিন্ন গাড়ীর চালকেরা, পেশাজীবি-দিনমজুর, নি¤œআয়ের, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। অনেক পোষ্য প্রানী গরম সইতে না পেরে আশপাশের ড্রেন বা জলাশয়ে নেমে পড়েছে। স্থানীয় এলাকার ছোট ছোট বাচ্চারা পানিতে ঝাপ দিচ্ছে শরীরকে শীতল করতে। তীব্র গরমের কারণে নগরীর সরকারি-বেসরকারি, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বাসা-বাড়ীতে বিরতিহীন ভাবে চলছে এসি, এয়ারকুলার, ফ্যান । সারা দিন রোদের উত্তাপে পড়ে পথচারীরা দেহের তৃষ্ণা মেটাতে পান করছেন ডাব, আাখের রস, ঠান্ডা লেবু ও বেলের শরবত, ঠান্ডা পানীয়।
নগরীর আবরনী ফ্যাশানের সত্বাধিকারী মো. হামিম জানান, একি কি গরম! গরমে অস্থির হয়ে পড়ছি। গরমে কোথাও শান্তি মিলছে না। এটা আমাদের কর্মফল। গাছপালার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে পৃথিবী উত্তপ্ত হচ্ছে। যে কারণে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ লাগানো দরকার। একমাত্র সবুজ বনায়নই আমাদের এই অবস্থা হতে আমাদের রক্ষা করতে পারে। বর্তমানে বেজায় গরম অনুভব হচ্ছে, কি আর করার ব্যবসার কাজে তো বাইরে যেতেই হবে। তবে বাইরে গেলে রোদে মনে হচ্ছে গাহ্ পুড়ে যাচ্ছে। তবুও যেতে হচ্ছে। সিএনজি চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বেজায় গরম পড়া শুরু করেছে, গরমে গাড়ী চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। শরীরে দরদর করে ঘাম ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই কি করবো গাড়ি তো চালাতেই তবে। কারণ প্রতিদিনের সংসার খরচ, গাড়ি ভাড়া, ছেলে মেয়েদের লেখাাপড়ার খরচ তো জোগার করতে হবে। রিকশাচালক কালাম জানান, সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়ে বেলা ১১ টা পর্যন্ত চালানো যায়। এরপর তাপমাত্রা আরো বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে গা পুড়ে যায়। গরমে বার বার গলা-বুক শুকিয়ে আসছে। ঠিকমতো রিকশাও চালানো যায় না। বাতাসের সঙ্গে মনে হচ্ছে গরম ভাপ উড়ছে। বৃষ্টি দরকার, তবে যদি কিছুটা স্বস্তি মেলে ।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয় ভরাট করা ও গাছপালা কেটে স্থাপনা গড়ে তোলাই প্রধানত গরম বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এছাড়া লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরম অনুভুত হচ্ছে বেশি। যেহেতু গরমকাল, তাই সাধারনত এপ্রিল ও মে মাসে গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তবে বৃৃষ্টিপাত হলে গরমের অনুভূত কিছুটা কমবে। বৃষ্টিপাত কম থাকার কারনেই এমন গরম অনুভুত হচ্ছে। গতকাল খুলনা বিভাগের সর্ব্বোচ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা ৩৮.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং খুলনায় ৩৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২/১ পর ঝড়-বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে গরমের এই তীব্রতা কমবে।



