৩১ অক্টোবরের লংমার্চ খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে —মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া ঐতিহাসিক লংমার্চ খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে খুলনার সর্বস্তরের জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসবে এবং লংমার্চটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মোনাওয়ার আনসারী, পেশাজীবী থানা আমীর জাফর সাদিক, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল, আজিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ চরম দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দামের উর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, “এই লংমার্চ কেবল কোনো বিশেষ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক-শ্রমিক এবং ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ের গণসংগ্রাম। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ এই শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের রাজপথ প্রমাণ করবে জনগণ শান্তি, শৃঙ্খলা ও অধিকার আদায়ে সংকল্পবদ্ধ।”
সমাবেশে লংমার্চ সফল করতে মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের প্রতি বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি মহানগরীর থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত জনসংযোগ ও প্রচার কর্মসূচি জোরদার করার নির্দেশ দেন।
তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা জনগণের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লংমার্চের বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সংগঠিত করে এই কর্মসূচিতে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুলনা মহানগরী ও জেলার প্রতিটি এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ লংমার্চের দিন রাজপথে উপস্থিত হয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের স্বাগত জানাবে। এ লক্ষ্যে মঞ্চ, ডেকোরেশন, মেহমান, খাদ্য বিভাগ, শৃঙ্খলা বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, প্রচার বিভাগ, প্রকাশনা বিভাগসহ ১৭টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালনের আহ্বান জানানো হয়।
লংমার্চের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে খুলনা মহানগরী আমীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাজনৈতিক সংগঠন। ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ অত্যন্ত সুসংগঠিত, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন করা হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না।
তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মসূচি পালন করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। লংমার্চ বহর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ অতিক্রম করে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই লংমার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আশা করব প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাস্তা নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।” ং



