এবারই প্রথম জন প্রতিনিধি ছাড়াই জোড়াগেটে কোরবাণীর পশুরহাট আয়োজন করছে কেসিসি

# হাট সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নগরীর জোড়াগেট পাইকারী কাঁচা বাজার চত্বরে কোরবানির পশুর হাট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এক সভা প্রশাসক মো: ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এবারও জোড়াগেট কোরবানীর পশুরহাট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় পশুরহাট সফলের লক্ষে এক গুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতি বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারও জোড়াগেট পাইকারী কাঁচা বাজার চত্বরে পশুহাট পরিচালনায় ব্যত্যয় হবে না। সুষ্ঠুভাবে পশুহাট পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন, পশুর হাটে কেউ যেন কোন রকম অনিয়ম বা চাঁদাবাজির মত কোন কার্যকলাপ ঘটাতে না পারে সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর থাকবে। হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সময় জাল টাকার ব্যবহার যেন না হয় সেজন্য হাটের স্থাপিত ব্যাংকের বুথে মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা শনাক্ত করার সুবিধা থাকবে। দূর থেকে এই হাটে আনা পশু কেউ যেন জবরদস্তি করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিতে না পারে সেজন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকবে। বিক্রেতারা যেন হাটের ভিতর বিশ্রাম করতে পারে সেজন্য ছোট ছোট শেড এর ব্যবস্থার পাশাপাশি টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হবে। হাটে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহের জন্য ওয়াসা ব্যবস্থা নেবে। অতিরিক্ত গরমে মানুষ ও পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে তিনি জানান। সভায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট দীপংকর দাশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদর্শন কুমার রায়, কেসিসি’র সচিব শরীফ আসিফ রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, কেসিসি’র রাজস্ব অফিসার এসকেএম তাছাদুজ্জামান, এষ্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীন, গণসংযোগ কর্মকর্তা আঃ মাজেদ, ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কেসিসি’র বিভিন্ন শাখার কর্মকর্ত-সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কেসিসি প্রতি বছরের ন্যায় তিন দফা হাটটি টেন্ডার আহবান করেন। তবে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় কেসিসি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেন। সপ্তাহ ব্যাপী আয়োজিত পশুরহাট চলে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। ২০২৪ সালে হাটে মোট ৬২৬৯টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে গরু ৩৯৮৩টি, ছাগল ২১৬২টি, ভেড়া-১২২টি ও মহিষ-২টি বিক্রি হয়। ওই বছর হাসিল আদায় হয় ২ কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৭ টাকা। ২০২৩ সালে মোট ৬০২০টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে গরু ৪০৮৯টি, ছাগল ১৯১১টি, ভেড়া ২০টি বিক্রি হয়। এ সময় হাসিল আদায় হয় ২ কোটি ১৮ লাখ ৪২ হাজার ৬০২ টাকা। তবে এবারই প্রথম জন প্রতিনিধি ছাড়াই কর্মকর্তা-কর্মচারি দ্বারা কেসিসির জোড়াগেট কোরবানীর পশুরহাটের আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রশাসক দায়িত্বরত কর্মকর্ত্-াকর্মচারিদের সর্তক করে বলেছেন, কর্তব্য কাজে গাফেলতি করলে ছাড় দেয়া হবে না।



