স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ

# ইয়েস কার্ড পেলেন ৪৫ জন #

স্পোর্টস রিপোর্টারঃ খুলনায় সম্পন্ন হলো সুইমিং ফেডারেশনের প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’। সোমবার খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে সাঁতারু বাছাই করা হয়। খুলনা বিভাগের তিন জেলা থেকে ৪৫ জন সাঁতারুকে বাছাই করেছে সুইমিং ফেডারেশন। খুলনা ভেন্যু প্রতিনিধি ও সাবেক সুইমিং ফেডারেশনের সদস্য জিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে এনে তাদের লম্বা ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সেরা সাঁতারু খুঁজে বের করার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খুলনা অনুষ্ঠিত হয় সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ-২০২৫ কর্মসূচি। এখানে অংশ নেয় খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার শিশু কিশোরেরা। তিনি আরও বলেন, বাছাই প্রক্রিয়া চলবে তিন ধাপে। চূড়ান্ত পর্যায়ের এই বাছাইকৃত সাঁতারুদের দু’ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বয়সভিত্তিক ‘ক’ গ্রুপে ৯-১১ বছর বয়সী সাঁতারুরা অংশ নেয়। ১২-১৫ বছর বয়সী সাঁতারুরা অংশ নেয় ‘খ’ গ্রুপে। বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সহযোগিতায় ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি এই ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে খুলনাসহ সারাদেশে সাঁতারে যে ক্রাইসেস চলছে, তা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব। খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রামের ন্যাচারাল সাতারু খোঁজে গত ১০ মে থেকে শুরু হয়েছে সাতার প্রতিযোগিতা। সারাদেশ ব্যাপী সাতার প্রতিযোগিতা শেষ হবে আগামী ২৫ জুন পাবনা জেলায় সাতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। গত ২০১৬ সালে শেষ বারের মত এ প্রতিযোগিতা হয়। নৌবাহিনীর লেঃ কমান্ডার ফাইম আহমেদ বলেন, সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগ্রহের জায়গা থেকে এ সাতারু খোঁজার প্রক্রিয়া আরো গতিশীলতা এসেছে। তিন ধাপে সাতারু নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় শহরে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ঢাকায় মাস ব্যাপী এবং তৃতীয় পর্যায়ে দু’ বছর ব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ চলবে। ফাইনাল বাচাইয়ে যারা টিকবে তাদের দু’ বছর ঢাকায় রেখে প্রশিক্ষণ, খাওয়া-দাওয়া, লেখা পড়া সব কিছুই সরকার বহন করবে। খুলনার প্রতিযোগিতায় তিন জেলা থেকে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১২৬ জন। তার মধ্যে ইয়েস কার্ড পেয়েছে ৪৫ জন। তারমধ্যে ২৯ জন ছেলে ও ১৬জন মেয়ে বলে তিনি জানান। সাতারে অংশ নেয়ার জন্য ছেলে শাকিবুজ্জামানকে নিয়ে আসেন বাবা মনিরুজ্জামান। খুলনার বয়রা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে তিনি থাকলেও ঢাকায় বেসরকারি কোম্পানীতে তিনি চাকুরি করেন। ঢাকায় বসে তিনি সাতার প্রতিযোগিতার খবর জানতে পেলে খুলনায় চলে আসনে। তিনি ছিলেকে যথা সময়ে সোনাডাঙ্গা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এনে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তার ছেলে বিজয়ী হয় বলে তিনি জানান। সমাপনী অনুষ্ঠানে সোমবার বিকালে উত্তীর্ণ সাঁতারুদের ইয়েস কার্ড প্রদান করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন সেরা সাতারুর খোঁজে বাংলাদেশ-২০২৫ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নৌবাহিনীর লেঃ কমান্ডার ফাহিম আহমদ(এস) বিএন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন, ভেন্যু প্রতিনিধি জিএম রেজাউল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাহনাজ খাতুন, সেরা সাতারুর খোজে বাংলাদেশের খুলনা ভেন্যুর নির্বাচন কমিটি ও সুইমিং ফেডারেশনের সদস্য মাহাবুবুর রহমান, মোঃ সোলাইমান, এম এইচ ঢালী, নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস প্রমূখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button