আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে

খুবি ছাত্রী নিহত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ১১
সাজেকে বেড়াতে গিয়ে চান্দের গাড়ি দুর্ঘটনা
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি চান্দের গাড়ি রাঙামাটি জেলার পর্যটন স্পট ‘সাজেক’ যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এ দুর্ঘটনায় মোছাঃ রুবিনা আফসানা রিংকী নামে এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযাগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিজানুর রহমান খান।
নিহত শিক্ষার্থী মোছাঃ রুবিনা আফসানা রিংকী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোমরপুরের শিক্ষক দম্পতি আব্দুর রহমান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের কন্যা। সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার স্টুডেন্ট আইডি নং ২১১৭১৬।
ট্যুরে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেশনাল ট্যুরে রওনা হন। এই টিমে ৩৮ জন শিক্ষার্থী, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ ৪ জন শিক্ষক ও ২ জন সাপোর্টিং স্টাফ ছিলেন। বুধবার সাজেক যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি চান্দের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে একজন শিক্ষক ও ১১ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে রিংকী নিহত এবং অন্যরা আহত হন। আহতদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী জীপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এক নারী পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। বুধবার দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের হাউজ পাড়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত ও আহতরা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এদিকে, গাড়ি খাদে পড়ে পর্যটক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইকবাল হোছাইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফেরার পথে পর্যটকবাহী জীপ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই এক নারী পর্যটক নিহত হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পর্যটক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পর্যটকরা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে জানা গেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযাগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিজানুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার রুবিনা আফসানা রিংকির আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। একই সাথে আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে নিহত শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।



