স্থানীয় সংবাদ

খানজাহান আলী থানা এলাকায় আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং

# শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বখাটে ইভটিজিংকারীদের
দৌরাত্ম্য অসহায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা #

সাইফুল্লাহ তারেক ঃ গত কয়েক বছর ধরে কিশোর অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, সিগারেট খাওয়া, প্রভাব বিস্তারের জেরে হরহামেশা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, মারধর, দলবেধে হামলা, এমনকি বাড়ির ভিতর ঢুকে পিতামাতার সামনে থেকে তুলে নিতেও দ্বিধা করছেন না তারা। গত এক বছরে খানজাহান আলী থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে ব্যাপক। খুলনার চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূলত ছোট অপরাধ থেকে তাদের যাত্রা শুরু। আস্তে আস্তে ইভটিজিং বা বখাটেপনা করলেও পরবর্তীতে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কেনা-বেচা, ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন কিশোররা। এমনকি দলবেঁধে বিরোধীপক্ষের ওপরও হামলা করছেন তারা। বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছে ‘কিশোর গ্যাং’। এমন চক্রের সংখ্যা নেহাত কমও নয়। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে সমাজে ‘বড় ভাই’ পরিচিতি পেতে এসব কিশোর বা উঠতি বয়সী তরুণকে নানা অনৈতিক কাজে ব্যবহার করছেন কয়েকজন ব্যক্তি। কিশোর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার’ বা সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে এলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কিশোর অপরাধের প্রবণতা কমানো যায়নি, বরং বেড়েছে। সম্প্রতি টিকটক, লাইকির মতো ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারে ঝুঁকে পড়ছেন কিশোর-তরুণরা। এক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন গ্যাং। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িতদের অধিকাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের অপতৎপরতা রোধে কাজ করছে প্রশাসন। এরই মধ্যে থানা এলাকাতে দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে বলে সুত্রে জানা যায়। তালিকা ধরে খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিং, ছিনতাইসহ বড় অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। স্থানিয়রা জানান খানজাহান আলী থানা রোডের গাফফারফুড মোড় বালিরঘাট, মিরেরডাঙ্গা টিবি হাসপাতাল, শিরোমনি বাইপাস, রংমিল রোড, জাব্দিপুর , সেনপাড়া এলাকাতে প্রতিদিন বিকালের পর থেকে গভীররাত পর্যন্ত উঠতি বয়সের কিশোরগ্যাং এর সদস্যরা আড্ডা জমায়, থানা পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান করলেও তাদের আড্ডা বন্দ হয়নি। এছাড়া থানা এলাকার শিরোমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গিলাতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় , কেডিএ খানজাহান আলী বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির পর বখাটেদের ইভটিজিং এ বিব্রত শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকরা। একসময় ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হলেও। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উচ্চ মধ্যবিত্ত, ধনীদের আলালের ঘরের দুলালরাও কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং, চলাফেরা সবই ভীতিকর। প্রথমে মাদক সেবন, পরে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করছে।বিশেষ করে স্থানীয় রাজনৈতিক ‘বড় ভাইদের নিয়ন্ত্রণে থেকে ওরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এসব কিশোর গ্যাংকে সরাসরি আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কিংবা কথিত ‘বড় ভাই’। তাঁদের দেওয়া শেল্টারে দিনকে দিন মরিয়া হয়ে উঠেছে এসব গ্যাং। গিলাতলা যুব সংঘের সাধারন সম্পাদক মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন এ মুহূর্তে খানজাহান আলী থানা এলাকাতে কিশোর গ্যাং ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। এটা এখনই বন্ধ করা দরকার। কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার বলেন শুধু গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না । তাঁর মতে, এই সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের কিশোর গ্যাং দমনে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের উচিত তাঁদের সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, তার খোঁজ রাখা। পাশাপাশি মা-বাবার উচিত সন্তানদের সময় দেওয়া।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button