স্থানীয় সংবাদ

১০ শিক্ষার্থীকে কান ধরে ওঠবস করালেন শিক্ষিকা : অভিভাবকদের ক্ষোভ

# শেখ মুজিবকে নিয়ে তার আবেগঘন পোস্ট #

স্টাফ রিপোটার ঃ খুলনার শেখপাড়া নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে ১০ শিক্ষার্থীকে রোদের মধ্যে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষিকার বিচার দাবি করবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ক্লাসরুমে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জুঁইকে মারধর ও আরেক শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১৫ আগষ্ট ওই শিক্ষিকা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি পোস্ট করে তাতে ‘বিন¤্র শ্রদ্ধা! আপনি আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা আপনার অকৃতজ্ঞ, অযোগ্য সন্তান’ মন্তব্য করলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সপ্তাহে শেষ দিনে শিক্ষিকা পারভীন আক্তার স্কুলের দৈনিক সমাবেশে দেরি করে আসায় ওই ১০ শিক্ষার্থীকে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এদের মধ্যে ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া ছাত্রী জান্নাত ও মান্নাত রয়েছে। পরে তিনি সকলের সামনে ১০ শিক্ষার্থীকে কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য করেন। এসময় বিদ্যালয়ের দপ্তরি শেখ ইনামুলকে দিয়ে ওঠবস গণনা করানো হয়।
ক্লাশরুমে এসে ওই শিক্ষার্থীরা লজ্জায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে ছুটির পর বাড়িতে বিষয়টি জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় অভিভাবকদের মধ্যে। শুক্র ও শনিবার দুইদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলে অভিযোগ জানাতে পারেনি। আজ রবিবার তারা ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিচার দাবি করবেন।
অভিভাবকরা জানান ওই শিক্ষিকার এ ধরনের আচরন নিয়ে এর আগে কয়েকদফা অভিযোগ দিলেও তা বন্ধ হয়নি বরং বেপরোয়া আচরন দিনদিন বেড়েছে। অপরদিকে ফেসবুকে ১৫ আগষ্ট মুজিবুর রহমানের ছবি পোস্ট করে তাতে ‘আপনি আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা আপনার অকৃতজ্ঞ, অযোগ্য সন্তান’ মন্তব্য করলে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কয়েকজন শিক্ষক ওই পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করলে চাপের মুখে তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তবে তার আগেই পোস্টটি অনেকবার শেয়ার হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরনে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। এব্যাপারে মুঠোফোনে পারভীন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুদের গায়ে আমি কখনো হাত তুলিনি আর এটা আমি পছন্দ করি না। তারা সময়মত স্কুলে আসে না বলে মৃদু শাস্তি হিসেবে এটা করেছি তাতে তারা এখন নিয়মিত স্কুলে আসে। এ ব্যাপারে তাদের পরিবারের কোন আপত্তিও ছিল না। তাকে প্রশ্ন করা হয় শেখ মুজিবুকে নিয়ে আপনি ফেসবুকে কোন আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানি পরিস্থিতি ভাল না, তারপরও রিস্পেক্টটাতো অন্তর থেকে আসে তাই দিয়েছিলাম, পরে ডিলেট করে দিয়েছি। এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম এর সাথে কয়েকদফা মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নি। বিষয়টি নিয়ে থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ্জাহানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম, কোন অভিভাবক এব্যাপারে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button