স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে ক্লিনিকের চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

# হামলা পাল্টা হামলায় কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন আহত #
# ক্লিনিকের মালিকের স্বামী ফুলতলা আওয়ামী দোসর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম #
# ক্লিনিকের মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী ক্ষমতাধর হওয়ায় প্রতিবাদের সাহস পায় না কেউ

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি লিন্ডা ক্লিনিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানায় সার্চ মানবাধিকার সোসাইটি খুলনা বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান এর ফুফাতো বোন, দামোদর বনপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ হাসান সরদারের স্ত্রী সুমাইয়া(১৯) কে ডেলিভারি সংক্রান্ত কারণে গত ১৬ সেপ্টেম্বর লিন্ডা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুমাইয়ার সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল থেকেই ক্লিনিকে বিদ্যুৎ ছিল না। এ অবস্থায় রোগীর প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় । রোগীর স্বজনরা বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে জেনারেটর চালু সহ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি প্রতি কোন কর্ণপাত না করে রোগীর প্রতি অবহেলা করেন। নিহত সুমাইয়ার স্বামী হাসান সরদারের দাবি তার স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট উঠলে বিষয়টা হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জানায় কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কোন কথাই শোনে নাই। নিহতের স্বামী হাসান বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বে অবহেলায় বেলা তিনটার দিকে আমার ছোট্ট শিশু কন্যা কে রেখে আমার স্ত্রী মারা যায়। এদিকে সিজারের ৩/৪ দিন পর রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এ সময় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে স্লোগান দিয়ে হসপিটালের দিকে এগিয়ে এলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে প্রতিরোধ করেন। স্থানীয় একটি সূত্র জানায় ক্লিনিকের মালিকের স্বামী ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন হওয়ায় তার অনুসারীরা নিহত সুমাইয়ার স্বজনদের উপর উল্টো হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে আহত নিহত সুমাইয়ার স্বজনরা জানায়, ক্লিনিকের মালিক স্থানীয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় এর আগেও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুবরণের ঘটনা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি । তারা বলেন ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ যেই করেছে তাকে হয়রানি হতে হয়েছে। প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে রোগীর স্বজনদের মারপিট করে গুরুতর যখন করেছে। এদিকে হামলার ঘটনার খবর পেয়ে খানজাহান আলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনা কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button