স্থানীয় সংবাদ

তালার ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদককে বহিস্কারের দাবী দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের

# দল থেকে পদত্যাগ করে সখ্যতা গড়েন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে #

তালা প্রতিনিধি ঃ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ’র কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিকে তালার ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দলের দুঃসময়ে হামলা, মামলা, নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতা-কর্মীরা। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালানো প্রভাষক শেখ আনিছুজ্জামান আনিছকে দলের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত না রাখার জন্য ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন নেতাদের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু, এই আবেদনকে তোয়াক্কা না করে আনিছুজ্জামান আনিছকে সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক করায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, তালা উপজেলার ৭নং ইসলামকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি থাকাকালে ইসলামকাটি গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিক’র ছেলে প্রভাষক আনিছুজ্জামান আনিছ পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যা উল্লেখ করে যুবদলের ইউনিয়ন সভাপতি পদ সহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যা’ সাতক্ষীরার একটি পত্রিকায় ২৬ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে প্রেস বিজ্ঞপ্তি হিসেবে প্রকাশিত হয়। একই তারিখের ওই পত্রিকায় ইসলামকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চন্দ্র গুহ’র পদত্যাগ পত্র অনুরুপ প্রেস বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ছাপা হয়।
ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দুঃসময়ে নিজ স্বার্থে দলীয় সকল পদ থেকে পদত্যাগ করে আনিছুজ্জামান আওয়ামী লীগের বিতর্কীত সকল নির্বাচনে প্রচারনা চালানো সহ আওয়ামী দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নিতে থাকে। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগের পতন এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে আনিছুজ্জামান ডিগবাজী দিয়ে আবারও বিএনপি সাজতে থাকে। একপর্যায়ে ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সার্স কমিটি গঠন করলে প্রভাষক আনিছুজ্জামান আনিছ কৌশলে সার্স কমিটির সদস্য হন। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাকে সার্স কমিটি থেকে বহিস্কার করার জন্য সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) নির্বাচনী এলাকার টিম লিডার বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি গাজী সুলতান আহমেদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল আলম, বিএনপি বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মহিদুজ্জামান (মধু), ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শেখ আব্দুল মোমিন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. মফিজুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক খান রিপন হোসেন, ইউনিয়ন শ্রমিকদলের আহবায়কআক্তার হোসেন, ইউনিয়ন জাসাস সভাপতি আব্দুল আলীম ও জিয়া পরিষদের সভাপতি আজগর আলী সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৭জন দায়িত্বশীর সিনিয়র নেতা স্বাক্ষর করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর ইউনিয়ন যুবদল আহবায়ক আব্দুল মোমিন সহ বিএনপির ৮ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদন উপেক্ষা করে তাকে ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক করায় ক্ষোভে ফুঁসছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নিবেদতিপ্রাণ নেতা-কর্মীরা। এই সকল নেতা-কর্মীরা অবিলম্বে সুযোগ সন্ধানী আনিছুজ্জামান আনিছকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় তাঁর দ্বারা দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তাদের অভিমত।
তবে, এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আনিছুজ্জামান আনিছ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আসছে সেগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট।
এব্যপারে জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি গাজী সুলতান আহম্মেদ বলেন, সার্স কমিটিতে আনিছুজ্জামানের নাম আসার পর আমি সহ দলের নেতারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। কিন্তু সিনিয়র নেতারা নিষেধ করায় এবং তার পদত্যাগপত্র খুজে না পাওয়ায় এবিষয়ে আর কথা বলিনি।
এব্যপারে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু হাসান হাদী জানান, আনিছুজ্জামান আনিছ এর পদত্যাগ পত্র গৃহিত হয়েছিল কি-না সেবিষয়ে ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেলেও সেটাতে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিলনা।
তবে, ইসলামকাটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বলেন, দল থেকে পদত্যাগ করা সহ আওয়ামীলীগের কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করার সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আনিছুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button