যশোরে কোতয়ালি মডেল থানা চত্বরে এক নারীকে নিয়ে দুই স্বামীর হাতাহাতি

যশোর ব্যুরো ঃ
যশোরে এক নারী তাঁর দুই স্বামীকে নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কোতোয়ালি থানা চত্বরে তাঁদের প্রকাশ্য টানা হেঁচড়ার ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সেখানে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।
জানাগেছে, ফরিদপুর জেলার কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারীর সঙ্গে সীমা অধিকারীর ৩৬ বছর সংসার জীবনে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্মগ্রহন করেন। তবে কিছুদিন আগে সীমা ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিকাশের ঘর ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করে তিনি ভারতে চলে যান। সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর রাতে পশাল কুন্ডু ও সীমা দম্পতি যশোরের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। খবর পেয়ে সীমা অধিকারীর প্রথম স্বামী বিকাশ সেখানে হাজির হলে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়।
থানায় উপস্থিত হয়ে সীমা অভিযোগ করেন, স্বামী বিকাশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সংসার ছেড়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না। অন্যদিকে বিকাশের দাবি, সীমার পরকীয়ার কারণেই সংসার ভেঙেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমা পালানোর সময় টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। তাই যে কোনো ভাবে স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি।
সীমা অধিকারীর সাম্প্রতিক সময়ের দ্বিতীয় স্বামী পলাশ জানান, সীমার সঙ্গে তাঁর তিন বছরের সম্পর্ক। তাঁরা দুজনেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসঙ্গে থাকতে চান।
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তাঁরা থানা হেফাজতে আছেন। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সীমা অধিকারীর দুই স্বামী বিকাশ অধিকারী ও পলাশ কুন্ডু আদালতের হাজতে অবস্থান করছিল। তাদেরকে ফৌজদারি কার্য্য বিধি ১৫১ আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে।



