ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম: ড্রেনের পরিবর্তে ২০ ফুট ইউনি ব্লক সড়ক নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ কাজীর গরু কিতাবে থাকলেও গোয়ালে নেই ! এমনইটাই ঘটেছে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন তহবিল প্রকল্পে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কয়েকটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিগত ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে উপজেলা পরিষদ প্রশাসক মুহাম্মদ আল আমিনের সভাপতিত্বে কয়েকটি প্রকল্প পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ১৩ নং গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন সভায় টুটুলনগরের ড্রেন নির্মাণে যথাক্রমে ৬২৭ ও ৬৬৫ নং এর দুইটি প্রকল্পে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যয় ধরা হলেও সেখানে উল্লেখিত ঐ ড্রেনের কাজ না করে উপজেলা পরিষদের এক ব্যক্তির নিকট আত্মীয়ের ব্যক্তিগত স্বার্থে মাত্র ১ লক্ষ টাকায় তার বাড়ীর সামনে ইউনি ব্লক দ্বারা ২০-৩০ ফুট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে যা উদ্ধোধন করেন ইউএনও মোহাম্মদ আল আমিন। ড্রেন নির্মাণ না করে নামমাত্র একটি রাস্তা নির্মাণে জলাবদ্ধতায় আটকে থাকা পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টুটুল নগরের বাসিন্দারা।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এক স্থানের কাজ অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেক স্থানেই সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়নি। এমনকি মোস্তফা মোড় এলাকার লাইন বিল পাবলার টুটুলনগরের ইসলামিয়া মসজিদের পাশে পারভীনের বাড়ি হতে টুটুলের বাড়ি পর্যন্ত ৬২৭ ও ৬৬৫ নং প্রকল্পে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার ড্রেন নির্মাণ কাজের কথা থাকলেও সেখানে আদৌ কোন ড্রেন নির্মাণ হয়নি।
এ ব্যাপারে টুটুল নগরের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বছরের পর বছর বৃষ্টির মৌসুমে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে টুটুলনগরের তাঁরা । বিগত ১৭-১৮ বছরে এখানে কখনোই কোন ড্রেন নির্মাণ হয়নি ।
যে কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনেকবার ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি।
এ ব্যাপারে টুটুলনগরের বাসিন্দা সৈয়দ নজরুল ইসলাম টুটুল জানান, এলাকার মানুষের জলবদ্ধতা নিরসনে নিজ উদ্যোগে তার বাড়ির সামনে যে ড্রেন নির্মাণ করেছেন সেটি তার নিজ অর্থায়নে করেছেন তিনি। এখানে সরকারি কোন কাজ হয়নি।
টুটুল নগরের বাসিন্দা পারভীন জানান, এখানে কোন ড্রেন হয়নি। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাচ্চাদের স্কুল কলেজে যাওয়া এবং মসজিদের মুসল্লিদের খুবই কষ্ট হয়। নির্ধারিত স্থানের ড্রেনের কাজ না করে অন্যত্র সামান্য একটু সড়ক নির্মাণ করায় অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার শহিদুজ্জামান পল্টু এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টুটুল নগরে কোনো ড্রেনের কাজ করা হয়নি। তবে সিডিউল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের ওয়ার্কস্ট্যান কর্মকর্তা ফরিদ এর নিকট আত্মীয়ের বাড়ির সামনে কিছু অংশে ইউনি ব্লক দ্বারা রাস্তা ও ছোট একটা ড্রেনের উপর স্লাব নির্মাণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্প অনেক সময় পরিবর্তন হয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনুরোধে সেই ধারাবাহিকতায় এক প্রকল্পের কাজ এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়া হয়েছে যে বিষয়টি তার দপ্তর থেকে খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন তিনি। এ সময় গুটুদিয়া ইউনিয়নের সড়ক, ড্রেন, ইটের রাস্তা, আরসিসি ঢালাই সহ অন্যান্য কাজের সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানাতে পারবেন বলে জানান।


