শ্রমিকদের মারধোর ও মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ স্বেচ্ছাসেবক দল খুলনা মহানগর যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠুর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু মনোয়ারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ময়ুর নদী ব্রীজের পাশে এম এ বারী লিংক রোডে দেনারাবাদ মৌজায় আমাদের ৭১ শতক জমি রয়েছে। এরমধ্যে ১২ দাগে আমার নামে ২০ শতক এবং ১৩ দাগে ৫১ শতক জমি আমার স্বামী মোঃ শাহজালালসহ তার ৬ ভাই-বোনের নামে দলিল রয়েছে। এই দু’ দাগের ৭১ শতক জমি তিন পাশ প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে আগেই। কিন্তু সামনের অংশের অথ্যাৎ ১২ দাগের সামনের অংশ ফাকা থাকায় গত ১৯ নভেম্বর (বুধবার) সকালে আমরা সেখানে শ্রমিক লাগিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজে হাত দেই। সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু হওয়ার পর আমার স্বামী নাস্তা করার জন্য বাড়ীতে আসেন। বেলা ১১টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আসাদুজ্জামান মিঠুর নেতৃত্বে ৯-১০ জন সন্ত্রাসীরা এসে দেয়াল নির্মাণে বাধা দেয় এবং শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেয়। নিরীহ শ্রমিকদের মারধর করার ফলে তারা উত্তেজিত হলে ঊভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ওই সন্ত্রাসীদের বেধরক মারপিটে আমাদের কয়েজন শ্রমিক গুরুতর জখম হন। একই দিন বিকালে সন্ত্রাসীরা ফের জমিতে গিয়ে নির্মাণাধীন প্রাচীর পুরোপুরি ভেঙ্গে দেয়। এরপর ওই সন্ত্রাসীরা ২০ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার শশুর শাহ আজিজুর রহমান ১৯৯০ সালে আসাদুজ্জামান মিঠুর মা কোহিনুর বেগমের কাছে ১৫.৬৫ শতক জমি বিক্রি করেন। যার সিএস খতিয়ান নং ৮, এস এ খতিয়ান ৭, আরএস ৩, দাগ ৭০ এবং দলিল নং ৬৯৭। এরপর কোহিনুর বেগম ওই জমি ২০১৩ সালে ইলিয়াস ও জিন্নাত সুরাইয়া এলিনের কাছে বিক্রি করে দেন। যার দলিল নং ৩৬৩৩/১৩। মজার ব্যাপার হচ্ছে জমিটি বিক্রি করে দেওয়ার পর কোহিনুর বেগম জালজালিয়াতির মাধ্যমে ওই জমি তার মেয়ে উম্মে সালমার নামে হেবা দলিল (নং ৩৫৩৩/২২) করে দেন। এখানে আমাদের প্রশ্ন হলো বিক্রিত জমি তিনি কিভাবে হেবা করে দিলেন। তিনি বলেন, আমরা ১৩ দাগের জমি সম্পুর্ণ বুঝে না পাওয়ায় আদালতে বন্টন মামলা দায়ের করি। যা চলমান রয়েছে। রায় না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তারা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জমিতে প্রথমে কোহিনুর বেগমের নামে একটি সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়। এরপর সেই সাইনবোর্ড নামিয়ে উম্মে সালমার নামে আরেকটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। ফলে গত ২৭অক্টোবর সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা থেকে পরপর দু’বার বিবাদীদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য নোটিশ করা হলেও তারা থানায় আসেনি। বরং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আমার শ্রমিকদেরকে মারধর ও দেয়াল ভেঙ্গে দিয়ে জোরপূবক জমি দখল নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবার এই সন্ত্রাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই। আমরা নিরাপত্তা চাই।


