স্থানীয় সংবাদ

কয়রায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কৃষক গফুরের সংবাদ সম্মেলন

# ফ্যাসিস্ট বাবুর ধর্মভাইদের ষড়যন্ত্রে শিকার #

স্টাফ রিপোর্টারঃ কয়রায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কৃষক গফুর গাজীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। রবিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষক গফুর গাজী। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, “আমি মোঃ আব্দুল গফুর গাজী কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন খড়িয়া মঠবাড়ী গ্রামের একজন কৃষক। আমি সরকারী খাস জমি ইজারা নিয়ে ধান ও মাছ চাষ করে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হয়ে আমি এবং আমার পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আর আমাদের প্রতি যে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে সেই কাহিনী বর্নণা করছি। আমি খড়িয়া মঠবাড়ী গ্রামে সরকারের কাছ থেকে এক একর খাস জমি ডিসিআরের মাধ্যমে ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ধান ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী শামসু বিশ্বাসের ছেলে শাহাজাহান সিরাজ ও তার ভাই শাহবাজ হোসেন বিশ্বাস সাং মহারাজপুর সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর ধর্মভাই পরিচয় দিয়ে এবং প্রভাব দেখিয়ে দশ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। পরে দলকৃত ওই জমি তারা দু’ভাই স্থানীয় মৃতঃ আবুল সরদারের ছেলে মিজান সরদারকে জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে দখল দেয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরপর পুরো জমি দখল করার জন্য পুলিশকে দিয়ে প্রভাব বিস্তার ও অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সকালে আমার ছেলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল ইসলামকে পিকনিকের কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা। পিকনিকের জন্য হাঁস কেনার কথা বলে আমার ছেলে আশরাফুল ও তার বন্ধু সাব্বিরকে স্থানীয় ফুলতলা বাজারে ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখে। এরপর কয়রা থানার পুলিশ নিয়ে ওই কেচিং সেন্টারের শিক্ষক শাহজাহান ও আব্দুল আলীম পিতা মৃতঃ আব্দুস সামাদ গাজী, সাং শ্রীরামপুর এবং আনসার গাজী, পিতা মৃত: আকের গাজী, সাং মহারাজপুর ঘটনাস্থানে এসে তাদের দুজনকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কয়রা থানার এএসআই শাহজাহান। শিক্ষক শাহাজাহান থানায় অভিযোগ করেন যে, আমার মানিব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ওই কক্ষে থাকা ক্যাশ বাক্স হতে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চুরি করেছে আমার ছেলে ও তার বন্ধু সাব্বির। এছাড়া আরো অভিযোগ করা হয় যে- আশরাফুলের বাবা আব্দুল গফুর ওই কোচিং সেন্টার থেকে ১০ টি সিসি ক্যামেরা চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা।খবর পেয়ে আমি থানায় গেলে আমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে সবাইকে ছেড়ে দেয় এ এস আই শাহজাহান। পরবর্তীতে থানায় বসে ওই সাদা ষ্টাম্পে স্বীকারোক্তি লিখে চুরি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আমি ও আমার সন্তানসহ চারজনকে আসামি করা হয়। মামলায় আমি ৩ মাস ও ছেলে ৬ মাস কারাবাসে থাকার পর খুলনায় জামিন না পেয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাই। পরবর্তীতে আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখি আমার ছেলে ও তার বন্ধু সেখানে চুরি করেনি। এছাড়া মামলায় ওই কেচিং সেন্টারের অন্য তিন শিক্ষক হারুন, জাহাঙ্গীর ও আরিফকে স্বাক্ষী করা হয়নি। মিথ্যা মামলায় যাদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে তারা সবাই শাহজাহান মাষ্টারের লোক। আমরা আরো জানতে পারি, শাহজাহান মাষ্টার আমার জমি দখলকারী প্রভাবশালী মিজান সরদারের নিকটম আত্মীয়। জমি দখল করার জন্য সে মাষ্টার শাহজাহানকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে। এই মামলা করে আমার ছেলের শিক্ষাজীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ছেলে যখন ৮ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ওই সময় এতটুকু একটা শিশুকে রিমান্ডে নিয়ে শারিরীক নির্যাতন করা হয়। এই মিথ্যা চুরি মামলা থেকে রেহাই পেতে আমি বিচারের জন্য তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মহসীনসহ আ’লীগের নেতাদের কাছে বিচার দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। যার কাছেই গিয়েছি সেই বলেছে শাহজাহান মাষ্টার সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর আত্মীয়। তারা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। পুলিশও অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়ে শাহজাহান মাষ্টারের পক্ষে অন্যায় অবস্থান নিয়ে আমার বিপক্ষে চার্জশীট দেয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এখন আমরা ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দিকে চেয়ে আছি। আমি আমার উপর এহেন অন্যায়ের বিচার চাই। আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর মঠবাড়ী পুলিশ ফাড়িতে আমাকে আটক করে আমার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করে ওই শাহজাহান মাষ্টার গং। এভাবে আমার এবং আমার পরিবারকে সর্বশান্ত করার চেষ্টা করছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এহেন অন্যায়, অবিচারের বিচার দাবি করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button