স্থানীয় সংবাদ

বিভিন্ন স্থানে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী

প্রবাহ ডেস্ক
বিভিন্ন স্থানে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর বিস্তারিত সংবাদ।
কয়রা
দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি, এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে খুলনার কয়রায় জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রানী সম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে সপ্তাহ ব্যাপী নানা কর্মসূচি এবং প্রাণীসম্পদ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক, খামারি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারী হাসপাতালের উদ্যোগে এই প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ পালন করা হয়। কয়রা সদরে র‌্যালি শেষে প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ শুভ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার সমীর কুমার সরকার ও উপজেলা কৃষি অফিসার তীলোক কুমার ঘোষ। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার তরুন কুমার রায়, উপজেলা প্রানী সম্পদ সম্প্রারণ অফিসার হাসান ফেরদৌস কমল, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোঃ আঃ ছালাম, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মোঃ ইউসুফ আলী, খামারী শাহানারা খাতুন, নারগিস আক্তার, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে প্রদর্শনীতে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়।
দাকোপ
খুলনার দাকোপে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী পালন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগতিায় বুধবার বেলা ১২টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠ প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বঙ্কিম কুমার হালদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃক্তা ও প্রাণি সপ্তাহের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসমত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবিএম এমদাদুল হক, এসআই মোনোয়ার হোসেন, উপজেলা জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ আমীর মওলানা আক্তারুজ্জামান, উপজেলা এসসিপি প্রধান সমন্বয়কারী এসএম এ রশিদ, উপজেলা দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হোসেন, দাকোপ প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ডাঃ আমিরুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, মোঃ শহিদুল্লাহ, আইসিটি কর্মকর্তা সমীর বিশ^াস, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শম্পা বিশ^াস, দাকোপ প্রেসক্লাব সহ-সভাপিত আজগর হোসেন ছাব্বির, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা শামীমা আরা, মোঃ বোরহান উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, সনত কুমার রায়, সফল খামারী নিরাঞ্জন ঢালী, ফরিদা আক্তার প্রমুখ। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী উপলক্ষে মেলায় ২০টি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির স্টাল প্রদর্শন করা হয়।
অভয়নগর
যশোরের অভয়নগরে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের আয়োজনে দায়সারা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০টি স্টলের মধ্যে ১৮টি ফাঁকা স্টলে বেধে রাখা হয়েছে কিছু ছাগল। এক ঘন্টা বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু হলেও ছিল না তেমন কোনো উদ্যোক্তা বা খামারি। কর্তৃপক্ষ বলছে জনবল সংকটের কারণে এমনটি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বাস্তবায়নে বুধবার দুপুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্বরে আলোচনা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) ডা. শামছুল আরফিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লাভলী খাতুন ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভবনের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ ও স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। ৩০টির মধ্যে ১২টি স্টল সচল রয়েছে। ফাঁকা স্টলগুলোর সামনে ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। খোঁজাখুঁজি করে মেলেনি কোনো উদ্যোক্তা বা খামারির। জনগণের উপস্থিতিও ছিল অনেক কম। কয়েকজন খামারি ও উদ্যোক্তা বলেন, এ ধরণের অনুষ্ঠান শুরুর ৩দিন পূর্বে প্রচার-প্রচারণা করা হত। অথচ এবারের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি। যে কারণে অধিকাংশ স্টল ফাঁকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনগণের উপস্থিতিও কম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অভয়নগরে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী দায়সারাভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) ডা. শামছুল আরফিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, ‘একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিয়ে দুই উপজেলা চলছে (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর)। সকালে বাঘারপাড়ার অনুষ্ঠান শেষ করে অভয়নগরে আসতে তাঁর একটু দেরি হয়েছে। যে কারণে বিলম্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। স্টল ফাঁকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে এমনটি হয়েছে।’
বটিয়াঘাটা
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে স্থানীয় পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রাণীসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর মোল্লার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ শোয়েব সাতঈল ইভান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ সেলিম সুলতান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুর রহমান, খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মোঃ কামরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুননেচ্ছা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা প্রমুখ।
দিঘলিয়া
দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ হারুন অর রশিদ। দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মাহমুদা সুলতানার সভাপতিত্বে ও উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা সাঈদা খাতুন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিঘলিয়া উপজেলা কন্টিনজেন্টের ২আইসি এন এম আজাদ, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ কিশোর আহমেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে একটি র‌্যালী দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলা মোড় হয়ে উপজেলা পরিষদের পিছন দিক দিয়ে প্রদর্শনী মাঠে এসে ফিতা কেটে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরু হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে প্রদর্শনী মাঠে আয়োজিত স্টল ও গরু-ছাগলসহ অন্যান্য হাঁস-মুরগি, অন্যান্য পশু-পাখির স্টল, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির স্টল, খাদ্য ও ঔষধের স্টল, বিভিন্ন ধরণের মিষ্টির ও পিঠার স্টল ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টলের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখলকারীকে পুরষ্কৃত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button