ডিসি অফিসের কর্মচারীর অত্যাচারে তটস্থ রূপসার একটি ভুক্তভোগী পরিবার

# জীবননাশের ভয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ #
রূপসা প্রতিনিধি ঃ রূপসার তিলক গ্রামে একটি পরিবার পার্শ্ববর্তী খুলনা ডিসি অফিসের কর্মরত এক কর্মচারীর অত্যাচার ও হামলায় অতিষ্ঠ। পার্শ্ববর্তী দু’টি পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন যাবত বিবাদ চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রতিবেশীর হামলা, জুলুম ও জীবননাশের হুমকিতে তটস্থ হয়ে রূপসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় অভিযোগ ও ভুক্তভূগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার তিলক গ্রামের মৃত আশরাফ আলী শেখের পুত্রদ্বয় ইমরান শেখ ও নিজাম শেখ দের দ্বারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন পার্শ্ববর্তী শরিকের মৃত দেলদার নায়েবের বড় ছেলে মনজুরুল করিম বাবলু, ছোট ছেলে ফাইজুল করিম লাভলু, স্ত্রী আলেয়া বেগম, পুত্রবধূ নাসরিন বেগম ও কলেজ পড়–য়া পুতা জিহান মাহমুদ ইমন। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মঞ্জুরুল করিম বাবলুর স্ত্রী নাসরিন বেগম বলেন, কিছুদিন আগে রাস্তার উপর একটি বাঁশের আগা পুড়ে থাকায় চলাচলের সমস্যা হচ্ছিল। তিনি বাঁশের আগাটি কেটে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইমরান শেখ ও তার ভাই খুলনা ডিসি অফিসে কর্মরত মিজান শেখ অকথ্য ভাষায় তাকে গালি গালাজ ও শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং হুমকি প্রদান করে বলে তোর একমাত্র ছেলেকে শেষ করে দেব। নাসিন বেগম আরো বলেন আমার স্বামীকে নিয়েও তারা নানারকম ষড়যন্ত্র করছে আমাদের বিরুদ্ধে। এমনকি আমার স্বামী লাভলুকে খারাপ পথে পরিচালিত হওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে। এর দরুন আমি শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় বিবাদী ১। ইমরান শেখ (৩৫), ২। নিজাম শেখ (৩২)ও তাদের মাতা ৩। হামিদা বেগম, বিবাদীগণ পরসম্পদলোভী ও হিংস্র প্রকৃতির। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীরা ক্রয় সূত্রে পাওয়া তিলক মৌজার ৪ শতক জমি থেকে কিছু অংশ জোরপূর্বক করার পায়তারা চালায়ে ব্যর্থ হয়ে বেপরোয়া আচরণ করে। নিজাম শেখ ডিসি অফিসে চাকরি করার সুবাদে সব সময় দাপট দেখায়। এভাবে বিবাদীগণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আমাকে ও আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হুমকি -ধামকি দিয়ে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় ইং১৯/০৩/২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টায় আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় উপস্থিত হয়ে আমার আম্মা আলেয়া বেগম (৬৬) বাড়ির সীমানার বেঁড়া সংস্কার করার সময় বিবাদীগণ মায়ের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমার আম্মা প্রতিবাদ করিলে ২নং বিবাদী আমার আম্মাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমার মায়ের চিৎকারে আমি সহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসলেসবাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামাক এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এ বিষয় নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভবনা আছে। এ ঘটনার বিষয়ে একাধিক স্বাক্ষী রয়েছে। তার মধ্য তিলক গ্রামের মোঃ আজমল এর পুত্র মোঃ ফারুক শেখ ও মোঃ বাবলু এর স্ত্রী সরিন বেগম প্রমূখ। ভুক্তভোগী পরিবারটি জীবননাশের আশঙ্কায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের দাবি যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসন আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারা ওই পরিবারটির অত্যাচার ও জুলুমের হাত থেকে রেহাই পাবে। এ বিষয়ে নিজাম শেখ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এমন কোন কাজের সঙ্গে জড়িত নই। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা।



