স্থানীয় সংবাদ

ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়কে ১১ মৃত্যু, আহত ৩০

আজাদুল হক, বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের বিশ^রোড সংশ্লিষ্ট ফকিরহাট উপজেলায় গত সাড়ে ৩ মাসে সড়কে ঝরেছে ১১ জন মানুষের প্রাণ। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। এ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংক সৃষ্টি হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেশী। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লেষণে করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ শ্যামবাগাত এলাকায় বাসের ধাক্কায় সুবীর দে (৬৫ নামের একজন ভ্যানযাত্রী নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সাড়ে ৩ মাসের হিসাব মতে গত ২ জানুয়ারি উপজেলার পালেরহাট এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসের সুপারভাইজার সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন বাসের চালক মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪)। ১৬ জানুয়ারি মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাইসাইকেল চালক আবিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হন। গত ২২ জানুয়ারি ফকিরহাট উপজেলার বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক পথচারী (২৫) নিহত হন। ২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কের ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় কৌশিক দেবনাথ (২০) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ ১৫ জন আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফকিরহাট মহাসড়ক এলাকায় বাসের ধাক্কায় আহত ভ্যানযাত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) নামের এক নারী মারা যান এবং তার স্বামী আতিয়ার রহমান (৫৫) আহত হন। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় এলাকায় কাভারভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে মটরসাইকেল চালক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হাসিব মোল্লা (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ বেলা ১১টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার কাকডাংগা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক কে এম ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) নিহত হন। এছাড়া ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টা দিকে উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া মোড় এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামের এক পথচারী নিহত হন। ১ এপ্রিল সকালে উপজেলার বৈলতলী এলাকায় বাস চাপায় ছাহাদ (১১) নামের এক শিক্ষার্থী মারা যায়। ৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাগলা-শ্যামনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাইক চালক ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হন। বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এখানের সড়ক সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ফকিরহাট বিশ্বরোড এলাকায় বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। সড়কে ওভার ব্রিজ না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বিধি নিষেধ ও আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো বেপরোয়া গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button