মণিরামপুরে খননকৃত হরিহরনদীর পাড় বাইপাস সড়কের বিকল্প হতে পারে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের মণিরামপুরে বাইপাস সড়কের দ্বার উন্মোচিত হতে পারে খননকৃত নদীর পাড়। পৌর এলাকার মোহনপুর বটতলা হয়ে বাদামতলা সেতুর পূর্ব দিকের পাড় হয়ে মণিরামপুর গোহাটা পর্যন্ত আনুমানিক দুই কিলোমিটার নদীর পাড় বাইপাস সড়ক নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এতে একদিকে পৌরশহরের প্রায় ৭শ’ মিটার সংকীর্ন সড়কের জন্য সৃষ্ট যানযটের ভোগান্তি হতে মুক্তি পেতে পারে জনগন, অপরদিকে প্রস্তাবিত ২শ’৭ কোটি টাকার বাইপাস সড়ক নির্মান খরচের প্রায় এক চতুর্থাংশ ব্যয় করে সেটি (বাইপাস সড়ক) নির্মান সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন। জানা যায়, ২০০১ সালের বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মণিরামপুর পৌরশহরের যানযট কমাতে বাইপাস সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নেন তৎকালিন সংসদ সদস্য প্রয়াত মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দিয়ে একটি সমীক্ষাও চালিয়ে ছিলেন। এতে পৌর এলাকার রাজারহাট-সাতর্ক্ষীরা মহাসড়কের সংযোগ সড়ক বেলতলা-বিজয়রামপুর-তাহেরপুর হয়ে গোহাটা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহন জটিলতায় উদ্যোগটি আর সামনের দিকে আগায়নি। পরবর্তিতে ২০১৯ সালে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কটি দুই লেনে উর্ন্নীত হলেও মালিকানা ও বরাদ্দকৃত অর্থ জটিলতায় পৌরশহরের মধ্যে মহাসড়কের প্রায় ৭শ’ মিটার প্রশস্ত হয়নি। এতে সামান্যতেই পৌরশহরের মধ্যে যানযটে নাকাল হয়ে পড়ে জনগন। এক পর্যায় তৎকালিন প্রতিপ্রন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য পৌর এলাকার মোহনপুর বটতলা-কামালপুর হয়ে মনিরামপুর সরকারি কলেজ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নেন। কিন্তু কাজটি এলজিইডি নাকি সওজ (সড়ক ও জনপদ বিভাগ) করবে এ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরে কাজটি সওজের আওতায় চলে যায়। বাইপাস নির্মানের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই পূর্বক জমি অধিগ্রহনসহ ২শ’ ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চুড়ান্ত হয়। সওজ যশোর অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলাউর রহমান জানান, মনিরামপুরে বাইপাস সড়ক নির্মানের ২শ’ ৭ কোটি টাকার প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠঅনো হয়েছে। এদিকে যশোরের দুঃখ ঘোছাতে ভবদহ সংলগ্ন নদী ও খাল খননে প্রায় ১শ’ ৪০ কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে চলছে। এরই অংশ হিসেবে মনিরামপুর পৌরশহরের পাস দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদী খননের কাজ চলছে। খননকৃত নদীর পাড়ে বিপুল পরিমান মাটি রাখা হচ্ছে। এই পাড় মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হবে। নদী খনন কাজে দায়িত্বরতদের মোশারফ হোসেন নামের একজন জানান, নদীর পাড় ক্ষেত্র বিশেষ ১৫-২০ ফুটের প্রশস্তের রাস্তা করা হতে পারে। এই পাড় বাইপাস সড়ক নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা। পৌর এলাকার মোহনপুর বটতলা হয়ে বাদামতলা সেতুর পূর্ব দিকের পাড় হয়ে মনিরামপুর গোহাটা পর্যন্ত আনুমানিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মান হলেই বাইপাসের সড়ক হয়ে যাবে। মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, এ ধরনের কাজ একটু জটিল হলেও সম্ভব। এতে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক নির্মানের ব্যয়ের অনেক কম লাগতে পারে। সওজ’র নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক সদিচ্ছা থাকলে নির্মান সম্ভব। এতে কিলোমিটার প্রতি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হত পারে।



